বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরের ধর্মঘট প্রত্যাহার

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ইনটিগ্রেটেড চেকপোস্টের (সুসংহত চেকপোস্ট) ট্রাক পার্কিংয়ে চার্জ বৃদ্ধির প্রতিবাদে ওপারের বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আবারো চালু হবে বলে ওপারের সিএন্ডএফ সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সারাদিন বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে ভারতীয় বন্দর ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দফায় দফায় ফলপ্রসূ বৈঠক হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পার্কিং চার্জ বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে এ পথে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেয় পেট্রাপোল বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন। এর ফলে পঁচনশীল পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে সীমান্তের দুই পাশে আটকা পড়ে আছে কয়েক’শ ট্রাক। বুধবারও এ পথে কোনো আমদানি-রফতানি হয়নি।
পেট্রাপোল বন্দর কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, চেকপোস্ট (সুসংহত চেকপোস্ট) চালুর পর আমদানি-রফতানি পণ্যের ট্রাক পার্কিং চার্জ হঠাৎ করে কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের জন্য বন্দরে প্রবেশে ঘণ্টা হিসেবে চার্জও দিতে হবে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে সভা ডেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি আমদানি-রফতানি বন্ধ রাখা হয়। তখন বন্দর কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিলেন দু’দিনের মধ্যে সন্তোষজনক সমাধান দেওয়ার। কিন্তু বন্দর ব্যবহারকারীদের বেধে দেওয়া সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরের মধ্যে সমাধান না হওয়ায় সোমবার থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার দফায় দফায় বৈঠক শেষে পার্কিং চার্জ না বাড়ানোসহ অন্যান্য দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রফতানি চালু হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হাসাবুল ইসলাম জানান, ওপারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বৈঠকের খবর পেয়েছি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ পথে আবারো আমদানি-রফতানি হবে বলে তারা মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন।
উল্লেখ, শুক্রবার দুপুরে ভারতের ল্যান্ডপোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান ওয়াইএস সেরওয়াত ও বাংলাশের স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চৌধুরী ফিতা কেটে ‘ইনটিগ্রেটেড চেকপোস্টের (সু-সংহত চেকপোস্ট) কার্যক্রম পরীক্ষামূলক চালু করেন। এরপর থেকে ভারতীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ নানাভাবে বন্দরের বিভিন্ন চার্জ বৃদ্ধি করেন।
জামাল হোসেন/এমএএস/এমএস