কোনো গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে এই সরকার আসেনি: মঈন খান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৯ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করার জন্য এই সরকার (অন্তর্বর্তী সরকার) আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

তিনি বলেন, এই সরকার কিন্তু একটি বিশাল দায়িত্ব নিয়ে এসেছে। সেই দায়িত্বটি কী? বাংলাদেশকে স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে রূপান্তর করা। এটি কিন্তু ছোটখাটো জিনিস নয়। আমি আনন্দিত তারা (সরকার) চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছেন। শুধু গ্রহণ করলে হবে না, দায়িত্বটিও সঠিকভাবে পালন করতে হবে। এটি শুধু তাদের জন্য নয়, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ জন্য।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকাস্থ মীরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান, গণপ্রত্যাশা এবং রাষ্ট্র সংস্কার’ বিষয়ক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মঈন খান বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরে আজকে যারা প্রতিনিধিত্ব করছেন, সরকারে তিনজন আছেন, এছাড়া বিভিন্ন কমিটিতে সমন্বয়ক রয়েছেন, নাগরিক কমিটি রয়েছে, বৈষম্যবিরোধী কমিটি রয়েছে। তাদের সরাসরি প্রশ্ন করতে চাই— এই যে চারটি গ্রুপ যে রয়েছে, তাদের মধ্যে ক’জন সত্যিকারের ছাত্র রয়েছে?

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

‘তারা কি আসলেই আজকে ছাত্র? ছাত্রত্ব শেষ করেছে? ছাত্রত্ব পরবর্তী তারা চাকরি প্রত্যাশী ছিল না? তাহলে আজকে যে আমরা ছাত্র-জনতা বলছি, টেকনিক্যালি কেউ প্রশ্ন করলে এটা যে কত দোষে দুষ্ট সেই প্রশ্ন তো আসছে।’

মঈন খান বলেন, যারা রাজপথে ছিল, যারা নিজেদের সাধারণ ছাত্র বলে পরিচয় দিয়েছিল, তাদের মধ্যে কি কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না? অবশ্যই ছিল। যারা সত্যিকারের ছাত্র রাজপথে ছিল, তারা কি কেউ বিএনপির সদস্য ছিল না? এটা বুঝতে হবে। সত্যটা হলো, তারা সেদিনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি বলে নিজেদের পরিচয় দেয়নি, তারা পরিচয় দিয়েছিল সাধারণ ছাত্র বলে। এই সত্যগুলো বুঝতে না পারলে আমরা যে সংকটে আছি, সে সংকট থেকে কিন্তু বের হতে পারবো না।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো পক্ষপাতিত্ব করতে পারবে না। যে মুহূর্তে তারা পক্ষপাতিত্বে চলে যাবেন, তখনই তাদের কার্যপদ্ধতি ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা শুনেছি, ছাত্ররা নাকি এই সরকারকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, আমরা জানি না সারাদেশের মানুষ কি তাদের দায়িত্ব দেয়নি? ১৮ কোটি মানুষ কি দায়িত্ব দেয়নি? তারা কি একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে?

‘সেই আন্দোলনে তো বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ গিয়েছিল। আমরা আবু সাঈদকে দেখেছি, তোমরা গুলি করো কিন্তু আমি প্রত্যয় থেকে সরবো না। যে ছেলেটি আন্দোলনকারীদের পানি খাইয়েছে, তার কথা ভুলে গেলে কিন্তু চলবে না৷ সবকিছু ভুলে গেলে কিন্তু চলবে না।’

সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার এমন একটি জিনিস, যেটা একবার করে ফেললাম আর সবকিছু সুন্দর হয়ে গেলো সেটাকে বুঝায় না। কারণ সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমি আজকে যেটি সংস্কার করলাম, সেটি আগামীকাল আবার সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, জনগণের প্রতি যদি আমাদের আস্থা থাকে, আমরা যদি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাহলে বর্তমান সমস্যা সমাধানের একটি মাত্র উপায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। যত দ্রুত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো ততই মঙ্গল।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাঁধে অনেক কাজ উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, এই সরকারের ওপর আমাদের অনেক আস্থা। তাদের শক্ত হাতে একটি কাজ করতে হবে, আর সেটি হলো- দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের অধ্যায় শুরু করা।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও মুক্তচিন্তা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম হায়দার প্রমুখ।

কেএইচ/এমকেআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।