সচিবালয় এলাকায় হর্ন

সব গাড়ির ৫০০, ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ির জরিমানা ২০০ টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০২২

রাজধানীর সচিবালয় এলাকায় হর্ন বাজানোর কারণে বেশ কয়েকটি গাড়িকে জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এতে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রাইভেটকারকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সময়ে অন্যান্য প্রাইভেটকারকে জরিমানা করা হয়েছে ৫০০ টাকা।

এ নিয়ে অভিযানে থাকা কর্মকর্তা বলছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িকে করা হয়েছে কম জরিমানা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৯ আগস্ট) সচিবালয়ের পাশের সড়ক রেল ভবনের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন হক। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম। সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন হক বলেন, যেহেতু সচিবালয় এলাকায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ, তাই হর্ন বাজালেই আমরা জরিমানা করছি।

অভিযান চলাকালে দুজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালককে জরিমানা করা হয়।

তাদের একজন মো. হাবিব জাগো নিউজকে বলেন, আমি হর্ন বাজাইনি। আমাকে পুলিশ থামাইছে। দাঁড়ানোর পরে হর্ন বাজাইতে বলে। বাজানোর পর শুনি আমার জরিমানা হবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অভিযানকালে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়া মোট ১৬টি গাড়িকে হর্ন বাজানোর অপরাধে ৪ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

সব গাড়ির ৫০০, ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ির জরিমানা ২০০ টাকা!

পরে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, যেহেতু সচিবালয়ের পাশে, এখানে অনেক সরকারি গাড়ি আসছে-যাচ্ছে, যারা হর্ন বাজাচ্ছে। তাদের কেন জরিমানা করা হচ্ছে না? এ প্রশ্নে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোনো সদুত্তর দেননি।

বিজ্ঞাপন

এরপর তাৎক্ষণিক একটি প্রাইভেটকার চলে আসে যাতে ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’ লেখা দেখা যায়। এসময় গাড়িটিকে দাঁড় করিয়ে চালককে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে অন্যান্য গাড়িকে জরিমানা করা হয় ৫০০ টাকা করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, অপরাধী অপরাধীই। সরকারি গাড়িকে জরিমানা করা যাবে না, এ ধরনের কোনো আইন নেই। যদি আইনে জরিমানার বিধান না থাকতো তাহলে আমরা জরিমানা করতামই না। আইনের বিধান সবার জন্য সমান।

অন্যান্য প্রাইভেটকারকে ৫০০ টাকা আর সরকারি গাড়িকে কেন ২০০ জরিমানা টাকা করা হলো, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আসলে একটু মানবিক দিক বিবেচনা করা হয়েছে আরকি। এছাড়া আর কিছু নয়।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মতিন জাগো নিউজকে বলেন, আইন-তো সবার জন্য সমান হওয়ার কথা। জরিমানা যদি করতেই হয়, তাহলে কম বেশি কেন হবে?

এমআইএস/এমএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।