বুয়েটে পড়ে এখন ছিনতাইকারী
টেস্ট ড্রাইভের কথা বলে নিয়ে যান দামি গাড়ি

রাজধানীর একটি শো-রুম থেকে টেস্ট ড্রাইভের কথা বলে দামি গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আহসান আহমেদ ওরফে মাসুম (৩৬) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে ছিনতাই করা জিপগাড়ি, একটি ম্যাগাজিনসহ পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি বিদেশি পিস্তল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার আহসান আহমেদ ওরফে মাসুম বুয়েট থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন। টেকলোজিতে তিনি খুবই অভিজ্ঞ। গাড়ি সম্পর্কে তার বিস্তর জ্ঞান। বিভিন্ন শো-রুমের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এভাবে তিনি গাড়ি নিয়ে যান। পরে গাড়ির মালিকদের কাছে গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করতেন।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পরীবাগ গার্ডেন টাওয়ারে অবস্থিত হইল ডিলস্ নামক গাড়ির শো-রুমের স্বত্বাধিকারী মাশরুর নাঈর। তিনি জাপানিজ গাড়ির একজন আমদানিকারক ও ডিস্ট্রিবিউটর। গত ৭ মার্চ বিকেলে অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি ফোন করে টয়োটা হ্যারিয়ার জিপগাড়ি কেনার জন্য মাশরুর নাঈরের সঙ্গে কথা বলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে মাশরুর নাঈর সেই ব্যক্তিকে তার বাসার গ্যারেজে গাড়ি দেখার জন্য আসতে বলেন। পরদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেই ব্যক্তি বাসার গ্যারেজে আসেন এবং গ্যারেজের বাইরে আরও দুজন অবস্থান করেন। পরে একটি টয়োটা হ্যারিয়ার জিপগাড়ি টেস্ট ড্রাইভ দেওয়ার জন্য মাশরুর নাঈরের চাচাতো ভাই মো. পিয়াল মাহমুদকে নিয়ে সেই অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি গাড়িটিতে ওঠেন।
তারা গাড়িটি চালিয়ে রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি) হাসপাতালের সামনে মেট্রোরেল স্টেশনে আসেন। তখন গাড়ি থামিয়ে তাদের একজন পিয়াল মাহমুদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যান। গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৮৫ লাখ টাকা।
- আরও পড়ুন
- পুলিশের ‘অক্সিলিয়ারি ফোর্স’ কী করতে পারবে, কী পারবে না
- চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের ভাইরাল দৃশ্য দেখে ছিনতাইকারী ধরলো পুলিশ
- ঈদে বাড়ি যাওয়ার আগে নিজ দায়িত্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
- পুলিশের সব ইউনিটে একই পোশাক থাকবে: ডিএমপি কমিশনার
রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম আরও বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ছিনতাইকারীরা মাশরুর নাঈরের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা দিয়ে মামলা না করার জন্য ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি না জানানোর জন্য হুমকি দেন। এ ঘটনায় গাড়ির মালিক মাশরুর নাঈরের অভিযোগের ভিত্তিতে শাহবাগ থানায় গত ৯ মার্চ একটি মামলা রুজু করা হয়।
মামলাটি তদন্তকালে তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা হয়। এরপর ২৪ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাজধানীর গুলশানের আমারি ঢাকা নামক হোটেলের সামনে অভিযান পরিচালনা করে আহসান আহমেদ ওরফে মাসুমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া জিপগাড়ি, একটি ম্যাগাজিনসহ পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পিস্তলের গায়ে মেড ইন চায়না ও প্রতিটি গুলির পেছনে কেএফ ৭.৬৫ লেখা।
গ্রেফতার আহসান আহমেদ ওরফে মাসুম বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ। তিনি একজন পেশাদার অপরাধী। এর আগে ছিনতাইসহ এরকম বহু অপরাধের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি গাড়ি ছিনতাই করে নিয়ে পরবর্তীতে গাড়ির মালিকদের কাছে গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করতেন। গ্রেফতার মাসুমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় গাড়ি ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
তার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রমনা বিভাগের ডিসি বলেন, তিনি বুয়েট থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন। টেকলোজিতে খুবই অভিজ্ঞ। গাড়ি সম্পর্কে তার বিস্তর জ্ঞান। আমাদের কাছে তিনি এখন পর্যন্ত গাড়ি ছিনিতাইয়ের দুটি ঘটনা স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতার মাসুম চোরাই গাড়িগুলো যেহেতু অন্য কোথাও বিক্রি করতে পারেন না, তাই যার কাছ থেকে চুরি করেন তার কাছেই মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেন। এর আগে তেজগাঁও থেকে এমন আরেকটি ঘটনায় ৬ লাখ টাকা নিয়েছেন।
ঈদে নিউ মার্কেট, শাহবাগ, ধানমন্ডিসহ রমনা বিভাগের নগরবাসীর নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ব্যাপক ডেপ্লয়মেন্ট এবং প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ। চেকপোস্ট, টহল ও মোটরসাইকেলে ঢাকার বিভিন্ন অলগলি চষে বেড়াচ্ছে। এছাড়াও অক্সিলিয়ারি ফোর্স মোতায়েন রয়েছে, পাশাপাশি পুলিশের ফোর্স প্রতিটি মার্কেট কেন্দ্রিক রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে অপরাধ ঠেকানোর চেষ্টা করছি।
টিটি/ইএ/জিকেএস