কমিউটার ট্রেনের টিকিট পেতে ঘরে ফেরা মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট আগেই বিক্রি হয়েছে। এখন চলছে ঈদযাত্রা। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় বেড়েছে ঘরমুখো যাত্রীদের। তবে আন্তঃনগর ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় ভোগান্তি ছিল না।
তবে ব্যতিক্রম রয়েছে কমিউটার ট্রেনের ক্ষেত্রে। কমিউটার ট্রেনগুলোর টিকিট দেওয়া হয় যাত্রার দুই ঘণ্টা আগে। সে কারণে এসব ট্রেনের টিকিট পেতে সকাল থেকেই ভিড় করছেন যাত্রীরা। টিকিট কেটে আসন পাওয়ার জন্য তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা। তাদের টিকিট মিলছে কাউন্টার থেকেই।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে।
স্টেশনে কথা হয় হামিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্রামের বাড়ি যাবেন। সকাল পৌনে ১০টায় তার ট্রেন (তিতাস কমিউটার) ছাড়ার কথা থাকলেও তিনি স্টেশন এসেছেন সকাল ৭টার দিকে।
হামিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাটতে এসেছিলাম। দুই ঘণ্টার অপেক্ষা শেষে টিকিট পেয়েছি। আমরা পরিবারের তিন সদস্যের জন্য তিনটা টিকিট কেটেছি, কিন্তু আসন পেয়েছি দুইটা। বাকি একটা দাঁড়ানো টিকিট। তবুও ভালো লাগছে যে অন্তত দুটি আসন পেয়েছি।’
একই কথা জানান অপর যাত্রী আশরাফুল। তিনি তার পরিবারকে আগেই গ্রামে পাঠিয়ে দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘সড়কপথে ভোগান্তি থাকে আবার ভাড়াও বেশি। এ কারণে আমরা ট্রেনে যাওয়া-আসা করি। ঈদের আগে আসন পাওয়া কঠিন হয়, এ কারণে পরিবারকে আগেই গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমি চাঁদরাতে বা সময় করে চলে যেতে পারবো।’
- আরও পড়ুন
- ঈদে ফিরতি যাত্রা: ৪ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি শুরু
- ট্রেনে স্বস্তিতে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ
- ঈদে রেলের টিকিট কালোবাজারি, কমলাপুর-বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার ৮
কতক্ষণের অপেক্ষায় আপনার হাতে টিকিট এলো- জানতে চাইলে আশরাফুল বলেন, ‘আমরা ভোরবেলায় চলে এসেছি। দুই-আড়াই ঘণ্টা হতে পারে। সেহরির পর ঘুমানো হয়নি, যদি ট্রেন মিস করি তাই। কাল থেকে আরও ভিড় হতে পারে, এ কারণে কষ্ট হলেও সকাল সকাল এসেছি।’
স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। যাত্রার আগ মুহূর্তে কিছু সংখ্যক স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কমিউটার ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হয় প্রতিদিন যাত্রার দুই ঘণ্টা আগে। আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত আন্তঃনগর ও কমিউটার মিলে ১৪টি ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। এখন স্টেশন ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে ৭টি ট্রেন। ট্রেনগুলো প্ল্যাটফর্মে রয়েছে।
এবারের ঈদযাত্রায় ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। এগুলো হলো- ঢাকা দেওয়ানগঞ্জ রুটে দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল, ভৈরববাজার- কিশোরগঞ্জ রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল এবং জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল। ঈদযাত্রা উপলক্ষে ট্রেনগুলোতে বাড়তি ৪৪টি বগি যুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া ২৭ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ের ঈদযাত্রায় নেওয়া কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকাগামী একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড়, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, চিলাহাটি ও বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকবে না। আর সুন্দরবন, মধুমতি, বেনাপোল, জাহানাবাদ, রূপসীবাংলা এক্সপ্রেস ও নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের শহরতলি প্ল্যাটফর্ম থেকে যাত্রা শুরু করবে বলে জানায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
এবার ঈদের ফিরতি টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৩ এপ্রিল থেকে। রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার পাওয়া যাবে আগামী ৪ এপ্রিলের টিকিট। একইভাবে ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০ মার্চ পাওয়া যাবে যথাক্রমে ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ এপ্রিলের টিকিট। এছাড়া যাত্রীদের ভ্রমণের সুবিধায় ২৬ মার্চ থেকে জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা স্টেশন থেকে জয়দেবপুরমুখী আন্তঃজোনাল আন্তঃনগর ট্রেনে কোনো টিকিট ইস্যু করা হবে না।
ইএআর/ইএ/জেআইএম