পিসিবির কারণেই ১০ ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত!
করোনার পর ক্রিকেটে ফেরার জন্য মরিয়া ইংল্যান্ড এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। করোনা মহামারি পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইউরোপে প্রকোপ কিছুটা কমেছে শুধু। এরই মধ্যে ইংল্যান্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজন করতে যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো এরই মধ্যে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছে। আর এক সপ্তাহ পর ইংল্যান্ডে উড়াল দেয়ার কথা পাকিস্তান ক্রিকেট দলেরও।
কিন্তু এরই মধ্যে সতর্কতামূলক করোনা টেস্ট করতে গিয়ে জানা গেলো মহা বিপদের কথা। একজন, দুজন নয়, মোট ১০জন ক্রিকেটার আক্রান্ত মহামারি করোনাভাইরাসে। একসঙ্গে পাকিস্তানের ১০ ক্রিকেটারের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর দেখে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব।
আর এই ঘটনায় পিসিবিকে পুরোপুরি ‘অপেশাদার’ উল্লেখ করে বোর্ডকে একহাত নিলেন সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক রশিদ লতিফ। ক্রিকেটারদের অনুশীলনে পিসিবি’র অপেশাদারিত্বের কারণেই আজ ১০ জন ক্রিকেটারকে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
প্রথমে সোমবার ৩ জন ক্রিকেটারের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর মঙ্গলবার বাকি ক্রিকেটারদের রিপোর্ট আসার পর দেখা গেলো আরও সাতজন ক্রিকেটারের করোনা পজিটিভ। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এক সাপোর্ট স্টাফও। এদের প্রত্যেকেরই দলের সঙ্গে আগামী রোববার ইংল্যান্ড সফরের বিমানে ওঠার কথা ছিল।
যদিও এরইমধ্যে (বুধবার) অভিজ্ঞ অল-রাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ জানিয়েছেন, আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে তিনি দ্বিতীয়বার ব্যক্তিগত উদ্যোগে করোনা পরীক্ষা করান। সেখানে তার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
সব দেখেশুনে পাকিস্তানের জার্সি গায়ে ৩৭ টেস্ট এবং ১৬৬ ওয়ানডে খেলা রশিদ লতিফ তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেছেন, ‘করোনা উদ্বেগের মধ্যে ক্রিকেটারদের জন্য পিসিবি যে আউটডোর প্র্যাকটিস সেশনের বন্দোবস্ত করেছিল সেখানে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের নিয়ম ঠিকঠাক মেনে চলা হয়নি।’
সাবেক পাক অধিনায়কের কথায়, ‘যে সকল ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তারা কার্যত বিনা বাধায় আউটডোর প্র্যাকটিস করছিলেন। সুতরাং এমন একটা বিপদ আসন্ন ছিল। সবমিলিয়ে এটা পিসিবি এবং ক্রিকেটারদের অপেশাদারিত্বের নমুনা বলা চলে।’
এদিকে আক্রান্ত ১০জন ক্রিকেটারের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করলেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি। তিনি নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়ে সেলফ-আইসোলেশনে রয়েছেন। আক্রান্ত ১০ ক্রিকেটারের সুস্থতা কামনা করে আফ্রিদি টুইটারে লিখেছেন, ‘ফাখর, ইমরান, কাশিফ, হাফিজ, হাসনাইন, রিজওয়ান, ওয়াহাব এবং মালাংয়ের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। দয়া করে শরীরের যত্ন নাও। সমস্ত পাকিস্তানি ভাই-বোনের কাছে আবেদন ভাইরাসটাকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করো।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ১০জন ক্রিকেটার এবং সাপোর্ট স্টাফসহ মোট ১১জনের মধ্যে কারও শরীরেই করোনার কোনও উপসর্গ দেখা দেয়নি। শোয়েব মালিক, ফিজিও ক্লিফ ডেকন এবং কোচ ওয়াকার ইউনিসের শরীরে করোনা পরীক্ষা এখনও হয়নি বলে জানিয়েছে পিসিবি।
আক্রান্ত সব ক্রিকেটার এবং এক সাপোর্ট স্টাফকে তাদের এবং পরিবারের স্বার্থে হোম-আইসোলেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে পিসিবি। তবে এরপরও ইংল্যান্ড সফর থেকে পিছিয়ে আসার পক্ষপাতি নয় পিসিবি। ইংল্যান্ড সফরের সমস্ত পরিকল্পনা অপরিবর্তিত রেখে পিসিবি কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে।
আইএইচএস/