ভিডিও EN
  1. Home/
  2. বিশেষ প্রতিবেদন

আমরা পেছনে ফিরতে চাই না

সায়েম সাবু | প্রকাশিত: ১১:৩০ এএম, ১১ জুলাই ২০১৮

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ক্ষমতাসীন দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন এবং এ আন্দোলনে ছাত্রলীগের অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হন জাগো নিউজ’র। ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোটা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আছে’- এমন দাবি করে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।

‘মানুষ এখন উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, আর সরকার উন্নয়নের মহাসড়কেই হাঁটছে’ বলেও মন্তব্য করেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সায়েম সাবু। দুই পর্বের শেষটি থাকছে আজ।

জাগো নিউজ : বিএনপির প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ভারত সফর করে এসেছে। আপনারাও ভারতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন, রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় কিনা?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : কে, কোথায় আসল বা গেল, তা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই আমাদের। আমরা মূল ম্যাসেজ নেব পাবলিকের কাছ থেকে। আমাদের সম্পর্ক জনগণের সঙ্গে। দিল্লি বা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো গুরুত্ব এখানে নেই।

জাগো নিউজ : আপনারা তো দিল্লিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন…

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। মহান মুক্তিযুদ্ধে দিল্লি আমাদের পাশে ছিল। আমরা সবসময় ভারতের সে অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে আসছি। তার মানে এই নয় যে, আমরা ভারতের কাছে ঝুঁকে থাকি।

বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ দিয়েছেন। এ দেশ স্বাধীন হয়েছে কারও তাবেদারির জন্য নয়। যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন, তারাই বিভিন্ন দেশের তাবেদারি করেন। আমরা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।

জাগো নিউজ : বিদেশিদের তৎপরতা ফের লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং সেটা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই…

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : বিদেশিদের কোনো তৎপরতা বাংলাদেশে কোনোদিন বাস্তবায়ন হয়নি, ভবিষ্যতে হবেও না। কিছু ঘটনা ঘটছে, এটা সাময়িক। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অনেক কিছুই ঘটেছে। কিন্তু কোনোটা টেকসই হয়নি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছি। যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার আমরা করেছি।

সংবিধানকে বাইপাস করে বহু কিছু করা হয়েছে। সফল হয়নি। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ফিরে এসেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন সচেতন। শিক্ষা, অর্থনীতির পরিধি বাড়ছে দিনদিন। মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান হচ্ছে।

জাগো নিউজ : কিন্তু অভিযোগ, এখন দেশে ‘নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র’ চলছে...

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : বিশেষ বিবেচনায় আপনি বলতেই পারেন, ‘দেশে এখন নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র চলছে।’ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে বলেই অনেকে তা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র বলছেন।

মূলধারার রাজনীতিতে আমরা যেহেতু যুদ্ধাপরাধীদের সুযোগ দিচ্ছি না, সেই প্রশ্নে আপনি নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র বলতেই পারেন। জঙ্গিবাদ দিয়ে তো আপনি গণতন্ত্রের কথা বলতে পারেন না।

জাগো নিউজ : মূলধারার রাজনীতিও সীমার মধ্যে আটকা বলে অভিযোগ...

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : এটা বিশ্বাস করি না। এগুলো অপপ্রচার। বিএনপি সংসদের বাইরে, এটা কিন্তু আওয়ামী লীগের কারণে নয়। বিএনপির কারণেই বিএনপির সর্বনাশ হয়েছে।

জাগো নিউজ : বিএনপির নেত্রীকে ‘বালুর ট্রাকে আটকে’ নির্বাচন করলেন আপনারা। গণতন্ত্রের দ্বার তো বন্ধ হলো তখন থেকেই?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : দেখুন, আমেরিকার নির্বাচনে অনিয়মের শুনানি এখনও চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প পুতিনের কৌশলে ক্ষমতায় এসেছেন, নাকি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছেন- এখনও কিন্তু তার তদন্ত হচ্ছে। ভেনিজুয়েলায় নির্বাচনের পর ১৫টি দেশ তাদের মিশন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তাই বলে কি সেই দেশে সরকার চলছে না?

জাগো নিউজ : কিন্তু এমন শাসন কি প্রত্যাশিত?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : বিএনপি কি কোনো কথা বলতে পারছে না? তারা বলুক যে, আমাদের এই কথা বলার অধিকার দেয়া হচ্ছে না। তারা তো সবাই বলছে।

জাগো নিউজ : চার দেয়ালের মধ্যে বলছে। অভিযোগ, রাজনৈতিক দলকে মাঠে নামতে দেয়া হচ্ছে না…

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : অভিযোগ থাকবেই। গণমাধ্যম যেখানে স্বাধীন সেখানে কে কী বলল, তা আমলে নেয়ার সুযোগ নেই। বিএনপির অভিযোগ পাগলের প্রলাপ। গণমাধ্যম যদি অভিযোগ করে তাহলে আমলে নেয়ার বিষয় থাকে।

খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজা পেলেন। অথচ তারা বলছেন, খালেদা জিয়া নির্দোষ। তারা বলছেন, রাজনীতির কারণেই খালেদা জিয়া জেলে। তাহলে তার জামিনের জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন কেন আইনজীবীরা? পল্টনের অফিসে বসেই কেন তারা রাজনীতি করছেন না?

জাগো নিউজ : অভিযোগ উঠছে, গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : বিএনপি বা অন্য কেউ এ ধরনের অভিযোগ করার অধিকার রাখে না। এ অভিযোগ গণমাধ্যমকেই করতে হবে। বিএনপি তো গণমাধ্যমের মুখপাত্র নয়।

জাগো নিউজ : সামনের নির্বাচন নিয়ে কী বলবেন?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হবে। এটিই সাংবিধানিক নিয়ম। বিএনপি এতে আসবে কি আসবে না, তা তাদের ব্যাপার। জনগণের ভোটে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারাই সরকার গঠন করবেন। এখানে ডান-বাম, আলো-অন্ধকারের কিছু নেই। খুব সরল বিষয়। যারা জটিল করে দেখছেন, তারা বর্ণচোরা।

জাগো নিউজ : সম্প্রতি খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তার ওই মন্তব্য কীভাবে দেখছেন?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অনেক কিছুই বলেছে। ধোপে টেকেনি। আমাদের দেশের মঙ্গল আমাদের জনগণই নিশ্চিত করে বলতে পারেন। এটি একান্তই আমাদের বিষয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন সে ক্ষমতা রাখে না।

আন্তর্জাতিক নীতি অনুসরণ করে যতটুকু সম্পর্ক রাখতে হয়, আমরা তাদের সঙ্গে ততটুকুই রাখব।

জাগো নিউজ : তৃতীয় শক্তি বা জোট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছেন?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : তৃতীয় শক্তির কথা বলে আলোচনা হালকা করার কোনো দরকার নেই। এটি মানুষ বিশ্বাস করে না।

অনেক বড় নেতা নামে আছেন, মাঠে নেই। জনগণ তাদের কখনই গ্রহণ করেননি। মানুষ যাদের গ্রহণ করে না তাদের নিয়ে কোনো শঙ্কা বা আলোচনার প্রয়োজন পড়ে না।

জাগো নিউজ : মাঠে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের তো প্রত্যাশা থাকে…

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : দেশ তো নতুন করে স্বাধীন করতে হচ্ছে না। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই রাজনীতি। কোনো সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজন পড়ছে না। তাহলে সংসদের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজন পড়ছে কেন?

জাগো নিউজ : কিন্তু ‘গৃহপালিত মার্কা’ বিরোধী দল তো আসলে গণতন্ত্রের সহায়ক হতে পারে না, যা বর্তমান সংসদে রয়েছে…

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : ফাইল বা চেয়ার ছুড়ে মারলেই বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন হয় না। সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় সাংসদ ‘চুপ বেয়াদব’ বললেই সঠিক দায়িত্ব পালন করা হয় না। বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে গঠনমূলক দায়িত্ব পালন করা।

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি আছে। সেই বিধি অনুযায়ী চলতে হয়। আমরা কি সভ্য হতে চাই না? পশ্চিমা গণতন্ত্র অনুসরণ করবেন আবার পশ্চাৎপদ ধারায় চলবেন, তা তো হতে পারে না।

জাগো নিউজ : তার মানে বর্তমান সংসদ সভ্যতায় ফেরাচ্ছে?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : বিএনপির কাছে আপনি সভ্য কিছু আশা করতে পারেন না। কারণ তারা তো রাজনীতির মূল আদর্শে নেই। তারা তো গোলাম আযম, নিজামীর ধারায় আছেন।

বিরোধী দলের সত্যিকারের সমালোচনা বলতে যেটি বোঝায়, আপনি খেয়াল করলে দেখতে পাবেন দশম সংসদই হচ্ছে সবচেয়ে অর্থবহ পার্লামেন্ট। বিরোধী দল গণতন্ত্র, সমাজ, উন্নয়ন প্রশ্নে গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে সহায়তা করছে। একদিন সংসদ নিয়ে গবেষণা হলে সবই বেরিয়ে আসবে।

বিএনপি সংসদে জনমতের প্রস্তাব দিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছে। এখন সেটা হচ্ছে না। বিএনপি একটি ফাঁপা রাজনৈতিক দল, তা ধরা পড়ে গেছে।

জাগো নিউজ : কিন্তু রাজনীতি নিয়ে জনমনের অস্বস্তি তো অস্বীকার করা যায় না…

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : কোনো অস্বস্তি নেই। জনমনে অস্বস্তি থাকলে তো উন্নয়নে এমন সফলতা আসত না। প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে। শিক্ষা, শিল্প, পরিবহনে স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। উন্নয়নের ছোঁয়া এখন সর্বত্র।

জাগো নিউজ : এ উন্নয়নে কি মানুষের চিন্তার উন্নয়ন ঘটাতে পারছে?

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : আপনি বাংলাদেশে বাস করছেন। কয়েক সপ্তাহ ইউরোপ-আমেরিকায় থেকে এসে সেখানকার উন্নয়ন, চিন্তার কথা বলতে পারেন না। দেশের গন্ধ ধারণ করে আপনাকে কথা বলতে হবে।

সামনে কীভাবে আরও এগিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে। আমরা পেছনে ফিরতে চাই না।

এএসএস/এমএআর/জেআইএম

আরও পড়ুন