কম বয়সে বিয়ের প্রবণতা বাড়ছে পুরুষের, কমছে নারীর
সাম্প্রতিক সময়ে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, কম বয়সে বিয়ের প্রবণতা বাড়ছে পুরুষের। তবে, কমছে নারীর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ’ (এমএসভিএসবি) শীর্ষক এক জরিপে এ তথ্য দেখা গেছে।
আরও পড়ুন>> বিয়ে বিচ্ছেদে এগিয়ে রাজশাহী, পিছিয়ে সিলেট
বিবিএসের তথ্য অনুসারে, সম্প্রতি বিশেষ করে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রথম বিয়ের গড় বয়স কিছুটা নিম্নমুখী। পুরুষের বিয়ের বয়স ২০১৭ সালে ছিল ২৫ দশমিক ১ বছর, যা ২০২১ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৩ বছরে। পক্ষান্তরে, নারীর বিয়ের গড় বয়স ২০১৭ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৪ বছর, যা ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৭ বছরে।
আরও পড়ুন>> জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার-জন্মহার দুটোই বেড়েছে
জরিপে দেখা গেছে, ২০২১ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২০ সালের তুলনায় বেড়েছে। ২০২১ সালে এ হার বেড়ে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে, যা ২০২০ সালে ছিল ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
আরও পড়ুন>> বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার বেড়েছে
জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালে ১৫ বছর বয়সের আগে বাল্যবিয়ের অনুপাত ‘এসভিআরএস ২০২০'-এর তুলনায় কিছুটা কমেছে। ২০২০ সালে এ অনুপাত ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০২১ সালে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে এসেছে।
রাজশাহী বিভাগে শিশু/বাল্যবিয়ের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। এ বিভাগে ১৫ বছরের আগে বাল্যবিয়ের হার ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগ, এখানে এ অনুপাত ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে ১৫ বছর বয়সের আগে শিশু/বাল্যবিয়ের হার শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ।
আরও পড়ুন>> বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু কমেছে ৬ মাস
১৮ বছর বয়সের আগে বাল্যবিয়ের ‘এসভিআরএস ২০২০'-এর তুলনায় এসভিআরএস ২০২১’-এ কিছুটা বেড়েছে। ২০২০ সালে এ হার ছিল ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০২১ সালে হয়েছে ৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে ১৮ বছরের আগে বাল্যবিয়ের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। এ বিভাগে ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ের অনুপাত ৪৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে থাকা খুলনা বিভাগে এ বিয়ের অনুপাত ৪০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।
অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে ১৮ বছর বয়সের আগে শিশু/বাল্যবিয়ের হার সবচেয়ে কম, মাত্র ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ পাওয়া গেছে।বাল্যবিয়ের ঘটনা আকস্মিক বাড়ার ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ একটি প্রেষণা হিসেবে কাজ করেছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন>> দেশে আয় ও ভোগের বৈষম্য বেড়েছে
জরিপে দেখা গেছে, পুরুষের ক্ষেত্রে প্রথম বিয়ের গড় বয়স ২৪ দশমিক ৩ বছর। নারীর ক্ষেত্রে এ বয়স ১৮ দশমিক ৭ বছর। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬ বছর।
শহরাঞ্চলে পুরুষ ও নারী উভয়ে পল্লী অঞ্চলের তুলনায় বেশি বয়সে বিয়ে করেন। শহরাঞ্চলে পুরুষের বিয়ের গড় বয়স ২৫ দশমিক ১ বছর এবং নারীর প্রথম বিয়ের গড় বয়স ২০ দশমিক শূন্য বছর। এর বিপরীতে পল্লী অঞ্চলে পুরুষের প্রথম বিয়ের গড় বয়স ২৩ দশমিক ৮ বছর এবং মেয়েদের ১৮ দশমিক এক বছর। শহরাঞ্চলে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান ৫ দশমিক এক বছর এবং পল্লী অঞ্চলে এ ব্যবধান ৫ দশমিক ৭ বছর।
প্রথম বিয়ের বয়সের মধ্যমা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বয়সের গড় ও মধ্যমার চিত্র একই। এখানেও দেখা যায়, পুরুষের প্রথম বিয়ের বয়সের মধ্যমার মান ২৪ এবং নারীর ক্ষেত্রে তা ১৮ বছর। ২০২০ সালের তুলনায় এ স্তরে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। ২০১৭-১৮ সময়ের বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (বিডিএইচএস) উপাত্তে দেখা যায়, ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের প্রথম বিয়ের বয়সের মধ্যমার মান ১৬ দশমিক ৩ বছর এবং ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এ মান ১৬ বছর।
আরও পড়ুন>> মাছ-মাংস-দুধ খাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে দেশবাসীর
প্রকল্পের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, যারা এখনো বিয়ে করেননি ও বিয়ে করেছেন (বর্তমানে বিবাহিত, বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত) এবং যারা ২০২১ সালে বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন, তাদের লিঙ্গভিত্তিক গড় এবং মধ্যমা বয়স রিপোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে। জরিপের সময় স্পষ্টতই যারা অবিবাহিত ছিলেন (কখনো বিয়ে করেননি) বলে জানিয়েছেন, তাদের বয়সের ওপর ভিত্তি করেই বিয়ের বয়স অনুমান করা হয়েছে। এ বয়সটিই প্রথম বিয়ের গড় বয়স হিসেবে বিবেচিত হবে।
এমওএস/এমএএইচ/জেআইএম