সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা
সব ধরনের ভাতা পেতে নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে

অনিয়ম রোধে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীসহ সব ধরনের ভাতা পেতে উপকারভোগীদের নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের দশম অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
উপদেষ্টা বলেন, আমরা ডিসিদের একটি বিষয় জানিয়েছি যে সোশ্যাল রেজিস্ট্রি করি অর্থাৎ উপকারীভোগীদের আমরা যে সেবাটা দিই তার ৪৬ শতাংশ ত্রুটিপূর্ণ। অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে ভুল ৪৬ জনের কাছে ভাতার টাকাটা যাচ্ছে। এটি শুধু বিশাল অংকের অপচয় নয়, যার পাওয়ার কথা সেই মানুষটা কষ্টে থেকে যায়। আমাদের যে রিফর্ম কমিশন আছে তাদের দিক থেকেও এ কথাটা ব্যক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যে উপকারভোগীদের তালিকা পেয়েছি, সেটি অতীত থেকে পেয়েছি। এখানে প্রচুর ত্রুটি আছে। ডিসিরাও আমাদের জানালেন যে কী পরিমাণ ত্রুটি তারা স্থানীয়ভাবে পাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
‘এজন্য আমরা সোশ্যাল রেজিস্ট্রেশনটা (ভাতাভোগীদের নিবন্ধন) আবার নতুন করে করতে যাচ্ছি। এটার একটা এমআইএসও হচ্ছে। আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবার নিবন্ধনটা করবো। আমরা চাই খুব দ্রুত এ ত্রুটিগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে। যেন আমাদের এই কষ্টের টাকাগুলো ঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, আমরা যেন এই অন্যায়কে রোধ করতে পারি।’
উপদেষ্টা বলেন, আপনারা জানেন এ ঘটনাগুলো ঘটে নানা অনিয়মের কারণে, দুর্নীতির কারণে। আমার ধারণা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ রোধ করতে পারবো। এজন্য যতটুকু সময় লাগবে সেটুকু সময় দিতেই হবে।
বিজ্ঞাপন
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, সবাইকে আবার নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনটা ঠিক না হলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কিংবা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজই ঠিক হবে না। নিবন্ধনটা নিপুণ হতে হবে।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, আমরা ডিসিদের আমাদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যতিক্রমী তথ্য সামনে এসেছে- আত্মহত্যার হার কিছু এলাকায় বেড়েছে, ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও মাদকাসক্তি বেড়েছে। বাল্যবিয়েও বেড়েছে। এ কথাগুলো বিভিন্ন জেলা থেকে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, এ সমস্যাগুলো দূর করতে আমাদের দলিলভিত্তিক তথ্য লাগবে, গবেষণালব্ধ তথ্য আমাদের নেই। গবেষণার চর্চাটাই আমাদের কম। এ বিষয়টি দৃঢ় করতে চাই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন শিশু পরিবারগুলোকে ১৮ বছর পর্যন্ত শিশুদের লালন-পালন করা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এরপর কি আমরা তাদের রাস্তায় ছেড়ে দেবো? এদের তো অনেকেই আছেন সম্পূর্ণ এতিম। আমাদের পরিকল্পনায় এটি নিয়ে ভাববার জায়গা রয়েছে। ১৮ বছর পরে বাচ্চাদের কর্মমুখী করার জন্য, যে লেখাপড়া করতে চায় তাকে লেখাপড়ামুখী করার জন্য, আমাদের অবস্থান নিতে হবে এবং ইনশাল্লাহ আমরা নেবো।
আরএমএম/এমকেআর/এমএস
বিজ্ঞাপন