মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের প্রস্তাব কুয়েতের
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলমান নৃশংসতা গণহত্যার সমান বলে মন্তব্য করেছেন কুয়েতের সংসদ সদস্যের একটি দল। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বর্বোরোচিতভাবে হত্যার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের ‘লজ্জাজনক নিরবতা’র মধ্যে তারা এ ধরনের মন্তব্য করেন।
কুয়েতের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির সংসদ সদস্যরা মিয়ানমারের সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলো এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সহিংসতা বন্ধের জন্য মিয়ানমারের সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগের জন্য দ্রুত এবং সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বানও জানান তারা।
সাংসদ আবদুল্লাহ আল ইনেজি বলেন, কুয়েতের উচিত মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং সেখানকার নির্যাতিতদের সহায়ত করা।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অারও বেশ কয়েকজন সাংসদ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খালিদ আল-জারুল্লাহ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমারে১৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, আমরা রোহিঙ্গাদের ওপর ঘটে যাওয়া পাশবিকতার কথা শুনেছি। তাদের (রোহিঙ্গাদের) ওপর ঘটে যাওয়া নিপীড়ন বড়ই অমানবিক, বর্বর।
তিনি আরও বলেন, নিজ দেশে এভাবে পাশবিকতার শিকার হওয়া কখনো কাম্য নয়। এটি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে জাতিসংঘের আগামী অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে।
রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের মাঝে ১০ হাজার টন ত্রাণ বিতরণ করবে তুরস্ক। প্রথম দফায় পাঠানো এক হাজার টন ত্রাণ বিতরণ শেষে দ্বিতীয় দফায় এই ত্রাণ পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
লিখিত এক বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে অত্যাচার, নিপীড়ন ও গণহত্যা চালানো হচ্ছে তা বন্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধান করে তাদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে আরব পার্লামেন্ট।
সূত্র : কুয়েত টাইমস
কেএ/আইআই