শীতের পোশাকে লোকসানের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের
বছর ঘুরে আবারও শীতের মৌসুম এসেছে। শীত এলেই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পোশাকের মার্কেটে বেচাকেনার ধুম পড়ে যায়। কম্বল আর শীতের জামা-কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা থাকে মূলত অগ্রহায়ণ মাস থেকেই। কিন্তু এবার শপিংমলগুলোতে তেমন কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। উল্টো এই সময়ে ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের অলস সময় পার করতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে সিদ্ধিরগঞ্জের কাসসাফ শপিং সেন্টার, আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেট, ইউএস শপিংমল, চান সুপার, নেকবর আলীসহ কয়েকটি শপিংমলে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ব্যবসায়ী ও দোকানের কর্মচারীরা মোবাইল ব্যবহার করে, বসে থেকে আর গল্প করে সময় পার করছেন। দু-চারজন ক্রেতার আনাগোনা থাকলেও বিক্রি শূন্যের কোঠায় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে মজুত করা শীতের পণ্যে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে শুধু শপিংমলই নয় বাইরের ফুটপাতের ব্যবসায়ও একই অবস্থা বলে জানিয়েছেন কয়েকজন দোকানদার। অনেকের মতে অন্যান্য জেলায় শীত নামলেও এখানে শীত এখনো শুরু হয়নি।
কাসসাফ শপিং সেন্টারের মায়ের আচল নামক দোকানের ম্যানেজার আলী হোসেন জানান, গেলো বছরের চেয়েও এবার আরও বেশি খারাপ বেচাবিক্রি। অধিক বিক্রির আশায় বেশি কম্বল মজুত করেও ক্রেতা পাচ্ছেন না। তার মতে, শীতের আবাস এখনো পায়নি মানুষ।
আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী অলি উল্লাহ বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের ইনকাম কমে যাওয়া ও দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ব্যবসা মন্দের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি আগের তুলনায় এখন তেমন শীত পড়ে না।
শীতের মৌসুম উপলক্ষে অতিরিক্ত কাপড় তুলছেন বলে জানিয়েছেন রিচ পার্ক নামক শোরুমের এক কর্মচারী। তিনি বলেন, অন্যান্য বছর অগ্রহায়ণ মাসেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। তবে এবার নেই। ১৫ দিনের মধ্যে কাস্টমার না পেলে বড় ধরনের লোকসান গুনবে তার মালিক।
ছেলেদের শীতের কাপড় বিক্রির আরেক দোকানি সোহাগ জানান, প্রতিবছর নভেম্বর শুরুতেই হুডি, ব্লেজারসহ শীতের জামা বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা। এবার নভেম্বর পেরিয়ে ডিসেম্বর শুরু হলেও ক্রেতার দেখা নেই। যথেষ্ট পণ্য দোকানে তুলেছেন তারা।
মো. আকাশ/জেডএইচ/এএসএম