শেষ সময়ে ঈদের কেনাকাটায় যা মাথায় রাখবেন
ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র ক’দিন। বেশিরভাগ মানুষই এখন শেষ পর্যায়ের কেনাকাটায় ব্যস্ত। কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি বিভিন্ন শপিংমলে জামা-জুতা কিনতেও ব্যস্ত অনেকেই।
তবে বাজেটের মধ্যে ঈদ কেনাকাটার জন্য বিশেষ কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে শেষ সময়ে ঈদের কেনাকাটা করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখলে অর্থ ও সময় দুটোই বাঁচবে-
আরও পড়ুন: ঈদের বাজারে জাল নোট চিনবেন যেভাবে
নোট করুন
ঈদ শপিংয়ে যাওয়ার আগে আপনার কী কী দরকার তা নোট করুন। যেহেতু ঈদের সময় সব জিনিসেরই দাম বাড়ে তাই এ সময় অপ্রোয়জনীয় কোনো কিছুই কিনবেন না।
অনেক সময় মার্কেটে ঢুঁ মারতেই এটা সেটা দেখে পছন্দ হয়ে গেলে কিনে ফেলেন অনেকেই। এতে বাজেটে টান পড়তে পারে। আবার দরকারি জিনিস নাও কেনা হতে পারে। তাই কোন কোন জিনিস দরকার সেই তালিকা অনুযায়ীই কেনাকাটা করুন। তাহলে অর্থ ও সময় দুটোই বাঁচবে।
বাজেট রাখুন
নির্দিষ্ট একটি বাজেট রাখুন ঈদ কেনাকাটার জন্য। তাহলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ হবে না। এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং, তবে আপনি যদি চান তাহলে অতিরিক্ত কেনাকাটার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: ফ্রিজ কিনবেন যে ৭ সুবিধা দেখে
প্রথম দেখায় কিছু কিনবেন না
কোনো কিছুই প্রথম দেখায় কিনবেন না। সেটি আপনার জন্য পারফেক্ট আবার আরামদায়ক কি না তা খতিয়ে দেখুন। প্রয়োজনে ওই পণ্যটির দাম অন্যান্য দোকানে কেমন, সেটিও আগে জেনে নিন।
অনেকেই জামা বা জুতা ট্রায়াল না দিয়েই কিনে আনেন, পরে তা ফিটিং না হলে পুনরায় আবারও তা এক্সচেঞ্জ করার জন্য দোকানে দৌড়ান। এতে সময় ও শ্রম দুটোই নষ্ট হয়।
একই পণ্য বিভিন্ন দোকানে খুঁজুন
এক দোকানে একটি পণ্য দেখেই তা কিনবেন না। অন্তত ৫টি দোকান ঘুরে তবেই পছন্দের পণ্যটি কিনুন। এতে ওই পণ্য সম্পর্কে আপনার জ্ঞান বাড়বে আর তখন দামাদামি করতেও সুবিধা হবে। এতে আপনি কম মূল্যেই সেটি নিতে পারবেন।
আরও পড়ুন: কোরবানি ঈদের আগেই যে যে কাজ গুছিয়ে রাখবেন
দোকানীর থেকে রসিদ চেয়ে নিন
যে কোনো জিনিস কেনার পর দোকান থেকে রসিদ চেয়ে নিন। ওই পণ্যে যদি কোনো সমস্যা থাকে তাহলে পরেও ফেরত বা এক্সচেঞ্জ করা যাবে কি না সেটিও জেনে নিন আগেভাগেই। আবার সব পণ্যের রসিদ কাছে রাখলে পরে কোন জিনিস কত দিয়ে কিনেছেন সে হিসাব রাখতেও সুবিধা হবে।
চেক করে নিন
কেনার আগে জামাকাপড় ভালো করে দেখে নিন। কোথাও কোনো ছেঁড়াফাটা আছে কি না তা ভালো করে চেক করে নিন। প্রয়োজনে কাপড়টি আপনার শরীরে ফিটিং হবে কি না সেজন্য ট্রায়াল দিয়ে তবেই কিনুন।
দরকারী পণ্যটিই কিনুন
একটি জামা কিনতে গিয়ে ৪-৫টি কিনে ফেলবেন না। তাহলে কিন্তু পরে অন্যান্য পণ্য সামগ্রী কেনার অর্থ কম পড়বে আপনার বাজেট অনুযায়ী। তাই ঠিক যে কাপড়টি দরকার সেটিই কিনুন।
আরও পড়ুন: কোরবানির জন্য কী কী সরঞ্জাম কিনবেন?
মার্কেটে আপনি নানা ডিজাইনের মনের মতো অনেক পোশাকই পেয়ে যাবেন, তবে সব নিশ্চয়ই আপনি কিনতে পারবেন না। তাই নিজের মনকে বোঝান ও নিয়ন্ত্রণ করুন।
ডিসকাউন্টের ফাঁদে পড়বেন না
ঈদের বাজারে এখন সব মার্কেটেই কমবেশি ছাড় দেওয়া হয়। তাই বলে ডিসকাউন্টের ফাঁদে পড়বেন না। অনেকেই ডিসকাউন্ট দেখে ২টির স্থানে ১০টি জিনিস কিনে ফেলেন। তারা ভাবেন পরে আর এই সুযোগ পাবেন না। আসলে বিষয়টি ভুল।
আপনি যাতে একটির সঙ্গে আরও ৫টি পণ্য কেনেন এজন্যই কিন্তু বিভিন্ন উৎসবের আগে এমন ছাড় দেওয়া হয়। তাই ডিসকাউন্ট দেখলেই পাগল হয়ে যাবেন না। আপনি শুধু আপনার প্রয়োজনমাফিক জিনিসটিই কিনুন। তাহলেই অর্থ বাঁচাতে পারবেন।
আরও পড়ুন: হার্ট অ্যাটাকের আগ মুহূর্তেই দেখা দেয় জটিল ৫ লক্ষণ
ছুটির দিন বাদে শপিং করুন
কেনাকাটার জন্য এমন সময় বেছে নিন যখন দোকানে ভিড় কম থাকে। অনেকেই ছুটির দিনগুলোতে শপিংয়ে বের হন, তখন সবাই তো শপিংয়ে যান, ফলে ভিড় বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
আর ভিড়ের মধ্যে আপনি কোনো কিছুই দেখে শুনে বুঝে কেনার সময় পাবেন না। ফলে তাড়াহুড়ো করে ভুল জিনিস কেনার সম্ভাবনাই বেশি। তাই এমন সময় কেনাকাটা করুন যখন ভিড় কম থাকে।
কেনাকাটার সময় কাউকে সঙ্গে নিন
শপিংয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গে কাউকে নিন। এতে আপনি নিজেকে নিরাপদ বোধ করবেন। এর পাশাপাশি শপিংয়ের ব্যাগ ধরতেও সুবিধা হবে।
এছাড়া একদিনেই সবকিছু কেনার পরিকল্পনা করবেন না। পণ্যের ধরন অনুযায়ী দিন ভাগ করে নিন। এতে সময় বাঁচবে।
জেএমএস/জেআইএম