শ্বশুরবাড়ির মধুর হাঁড়ি

ঈদের প্রথম দিন কাটলো নিজ পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে। দ্বিতীয় দিনটি অনেকের কাছেই বিশেষ, এদিন শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন জামাইরা। নতুন জামাই হোন বা দীর্ঘদিনের, শ্বশুরবাড়ির এই ডাক বাঙালি সংস্কৃতির এক মধুর অংশ। ঈদের পরদিন সকাল থেকেই বাড়ির মেয়ে-জামাইকে নিয়ে ব্যস্ততা চোখে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে।
কেন এই দিনটিকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়? কারণ, ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি এটি পরিবারের বন্ধনকে আরও মজবুত করে। নতুন জামাইদের জন্য এটি এক ধরনের আনুষ্ঠানিক স্বাগতম, আর পুরোনো জামাইদের জন্য এটি আবার ফিরে যাওয়া সেই আদরের জায়গায়, যেখানে তারা সন্তানের মতোই স্নেহ পায়।
এ দিনটিতে বাড়ির মেয়েকে ফিরে পায় বাবা-মা, সেইসঙ্গে বাঙালির বিখ্যাত জামাই আদর পায় কন্যার জীবনসঙ্গী। তাই একটু বাড়তি প্রস্তুতি তো লাগেই।
কীভাবে প্রস্তুত হবেন?
১. উপহার নির্বাচন: শ্বশুরবাড়ির জন্য উপহার বাছাই একটি বড় বিষয়। মিষ্টি, ফল, নতুন পোশাক বা শ্বশুর-শাশুড়ির পছন্দের কোনো জিনিস নিয়ে যেতে পারেন।
২. পোশাকের প্রস্তুতি: ঈদের পরদিনও অনেকেই নতুন পোশাক পরেন। পাঞ্জাবি হতে পারে ভালো পছন্দ, এতে উৎসবের আমেজটা দৃশ্যমান থাকে।
৩. সময়মতো পৌঁছানো: কন্যা ও জামাইয়ের আগমনের পথ চেয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন প্রতিটি বাবা-মা। তাই সকাল সকাল রওনা দেওয়ার চেষ্টা করুন, যেন দুপুরের আগেই শ্বশুরবাড়ি পৌঁছে যেতে পারেন।
৪. প্রত্যেক সদস্যের গুরুত্ব: শ্বশুর-শাশুড়ি ছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের পছন্দের কিছু নিয়ে যাওয়া, প্রত্যেদের সঙ্গে আলাদা করে কুশল বিনিময় করা প্রভৃতি আপনার সম্পর্কগুলোকে আরও মজবুত করবে।
কিছু সতর্কতা
শ্বশুরবাড়ির রীতি-নীতি মেনে চলুন, বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করুন। অতিরিক্ত রসিকতা বা কথাবার্তায় সাবধান, যাতে কেউ অস্বস্তি না বোধ করেন। সময় নিয়ে যান, তাড়াহুড়ো করলে ভালো লাগার জায়গাটাই মিস হয়ে যাবে। আপনার স্ত্রীকে কিছুটা সময় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাদা সময় কাটানোর সুযোগ করে দিন।
এ দিনে জামাইকে ঘিরে শুরু হয় বাড়ির লোকজনের উৎসব, বিশেষ খাবারের আয়োজন তো থাকেই। শ্বশুরবাড়ির এই মধুর সম্মেলন শুধু একটি প্রথা নয়, এটি সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন। তাই এই দিনটিকে উপভোগ করুন, মিষ্টি কথায়, গল্পে, হাসিতে আর ভালোবাসায় ভরিয়ে তুলুন সময়টি।
এএমপি/এএসএম