দেশজুড়ে

দিনাজপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হট্টগোল-সংঘর্ষ

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সংঘর্ষ ও ফুলবাড়ীতে বিএনপির বর্ধিত সভায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বীরগঞ্জে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Advertisement

জানা যায়, বীরগঞ্জ উপজেলার ৫নং সুজালপুর ইউনিয়নে জগদল বাজারে শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে যুবদলের একটি কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে ইউনিয়ন বিএনপি। যুবদল ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বিকেল ৪টার দিকে জগদল সভাস্থলে যাচ্ছিলেন। এসময় বলাকা মোড়ের কোমর রাইস মিলের কাছে পৌঁছালে তাকে বিএনপির একটি গ্রুপের ১৫-২০ জন সদস্য আটক করে এলোপাথাড়ি মারপিট করে লাঞ্ছিত করে।

এ সময় বাধা দিতে গেলে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তানভীর চৌধুরী ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী আকাশের নেতৃত্বে পৌর কমিটির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবলু, ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সুজন আলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য বাবু ও একরাম আলীকে মারধর করে আহত করে।

এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির উপজেলা কমিটির অপর গ্রুপের দুই শতাধিক যুবদল নেতাকর্মী লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদেরকে পাল্টা ধাওয়া করে। এতে আলহাজ্ব তানভীর চৌধুরী ও আকাশ চৌধুরী দুজন আহত হন। আহতদেরকে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Advertisement

উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানায়, বীরগঞ্জে সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ধলুর আলাদা আলাদা গ্রুপ রয়েছে। তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে এলাহী ও থানার ওসি আব্দুল গফুর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

অপরদিকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির বর্ধিত সভা ঘিরে দলটির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা চত্বর-সংলগ্ন রাবেয়া কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।

বিএনপির নেতা-কর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা বিএনপির দুটি পক্ষ আছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম (মতি)। অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাজুল ইসলাম। বর্ধিত সভা ঘিরে আজ সকাল থেকে উপজেলা চত্বর ও শহরের নিমতলা মোড় এলাকায় নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুরশিদ আলমের পক্ষের নেতা-কর্মীরা নিমতলা মোড় থেকে একটি মিছিল নিয়ে বর্ধিত সভাস্থলে আসেন। আগে থেকেই সভাস্থলে ছিলেন শাহাজুল ইসলামের পক্ষের নেতা-কর্মীরা। এ সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা পরস্পরবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। এতে কথা কাটাকাটি থেকে হট্টগোল তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

Advertisement

বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি, সিনিয়র সহসভাপতি মোকাররম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান বাদশা প্রমুখ।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় পর কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনেক কষ্ট ও ক্ষোভ জমা আছে। আজ এ সভাকে কেন্দ্র করে একটু হই-হুল্লোড় হয়েছে। তবে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবে সভা পরিচালনা করা হচ্ছে।

এমদাদুল হক মিলন/এফএ/এমএস