বিশ্বের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় চেরাপুঞ্জিতে, এ কথা নিশ্চয়ই সবার জানা। তবে বদলেছে পরিবেশ, তাই সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের স্থানও এখন অনেকটাই বদলে গেছে। তবে বদলায়নি চেরাপুঞ্জির প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ।
Advertisement
ঝরনা, পাহাড়, গুহা, প্রাকৃতিক সেতু, মেঘ ও বৃষ্টি দেখতে পর্যটকরা সেখানে ছুটে যান। চেরাপুঞ্জির আরেক নাম হলো সোহরা। সেখানকার অজস্র ঝরনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে।
বিশেষ করে বর্ষায় চেরাপুঞ্জির পাহাড় হয়ে ওঠে আরও সবুজ। এ কারণে বর্ষায় অনেক পর্যটক চেরাপুঞ্জিতে ভিড় করেন। এ সময় সেখানকার কোন কোন স্পটে ঢুঁ মারতে ভুলবেন না, চলুন জেনে নেওয়া যাক-
ডাবল ডেকার লিভিং রুট ব্রিজ
Advertisement
প্রথম দিনের শুরুটা করতে পারেন চেরাপুঞ্জির অন্যতম আকর্ষণ উমশিয়ংয়ের ডাবল ডেকার রুট ব্রিজ দিয়ে। গাছের শিকড় দিয়ে তৈরি দোতলা এই প্রাকৃতিক সেতু। প্রকৃতি ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন অবাক করার মতো। একসঙ্গে ৫০ জন এই সেতুর ওপর দাঁড়াতে পারেন।
রেইনবো ফলস
এরপর আপনার গন্তব্য হতে পারে নোগরিয়াত গ্রামের রেইনবো ফলস। যদিও সেই পথ বেশ খাড়া। তবে সূর্যের আলো ঝরনার পানিতে পড়তেই যে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে ও সাত রং ফুটে ওঠে সেই সৌন্দর্য চড়াই পথের ক্লান্তি মুছে দেয়। ঝরনার পাশে বসেই দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন।
আরও পড়ুন
Advertisement
নহকালিকাই ঝরনা
এখান থেকেই ঢুঁ মেরে আসতে পারেন চেরাপুঞ্জির আরও একটি জনপ্রিয় ঝরনা নহকালিকাই থেকে। সবুজে ঢাকা উচুঁ পাহাড় থেকে সোজা নেমে গেছে জলপ্রপাতটি। নীচে তৈরি হয়েছে পাথরের খাঁজে ছোট একটি জলাশয়। তার নীলচে রং দেখলেও মুগ্ধ হবেন।
মাওকডক ডিমপেপ ভ্যালি
ঘন সবুজে ঢাকা পাহাড়ি উপত্যকা হলো মাওকডক ডিমপেপ ভ্যালি। নহকালিকাই জলপ্রপাত থেকে এর দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। এই উপত্যকা ঘুরেই শেষ করুন প্রথম দিনের ভ্রমণ।
মোসমাই কেভ
পরের দিন সকালে সোজা চলে যান মোসমাই কেভে। এটি চুনাপাথরের গুহা। সেখানে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ে তৈরি হয় স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাগমাইট, যার সৌন্দর্য খুবই বিস্ময়কর।
এই গুহার ভেতরের পথগুলো এতোটাই সংকীর্ণ যে, কোথাও কোথাও হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয় আবার কোথাও একপাশ হয়ে। তবে বেশ রোমাঞ্চ উপভোাগ করতে পারবেন সেখানে।
নংথাইমাই ইকো পার্ক
মোসমাই কেভ থেকে চলে যেতে পারেন কাছের নংথাইমাই ইকো পার্কে। সেখানে পৌঁছে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে উপভোগ করুন চারপাশের অপরূপ সৌন্দর্য।
আরওয়া কেভ
এরপর বিকেলে ঘুরে আসুন বহু প্রাচীন এক গুহা আরওয়া কেভ থেকে। সেখানে দেখবেন নানা রকম জীবাশ্ম। মাছের হাড় থেকে বিভিন্ন প্রাণীর জীবাশ্ম দেখা যাবে এই গুহার দেওয়ালে।
সেভেন সিস্টার্স জলপ্রপাত
গুহা থেকে বেরিয়েই ঢুঁ মেরে আসুন নামকরা সেই সেভেন সিস্টার্স জলপ্রপাত থেকে। বিকেলে এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য অনেকটাই বেড়ে যায়। পাহাড়ের বুক চিরে নেমেছে সাতটি জলধারা।
থাংকারাং পার্ক
সন্ধ্যায় ঘুরে নিন থাংকারাং পার্ক। এই পার্কের রং-বেরঙের আলোকসজ্জা আপনাকে মুগ্ধ করবে। ঝরনা ও গাছপালা ঘেরা এই উদ্যান সন্ধ্যায় ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।
সূত্র: ইন্ডিয়া.কম
জেএমএস/এএসএম