জুলাই অভ্যুত্থানের পর মাদরাসা স্থাপনে আবেদনের হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২৬ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০২৫
ফাইল ছবি

২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত আট মাসে দেশে নতুন মাদরাসা স্থাপনে আবেদন পড়েছিল মাত্র একটি। জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত আট মাসে মাদরাসা স্থাপনে আবেদন জমা পড়েছে ১৮টি। আবার আওয়ামী লীগের পতনের আগের আট মাসে দাখিল থেকে আলিমে উন্নীত করতে আবেদন করেছিল তিনটি মাদরাসা। অথচ পরের আট মাসে দাখিলকে আলিম উন্নীত করতে আবেদন পড়েছে ১২টি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সবশেষ ১৬ মাসের প্রতিবেদন ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগের আমলে মাদরাসা শিক্ষাকে অবমূল্যায়ন করা হতো। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া থেকে সবক্ষেত্রে বৈষম্য প্রকট ছিল। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। মাদরাসা শিক্ষাকে সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় আগ্রহ বাড়ছে।

মাদরাসা শিক্ষাপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১১-২৩ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে দেশে নতুন মাদরাসা স্থাপন করা হয়েছে ৫৪টি। অথচ গত ৫ আগস্টের পর অন্তত ৮২টি নতুন মাদরাসাকে পাঠদানের অনুমতি দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তাদের ভাষ্য, সরকার সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে মাদরাসাকেও তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিতে চাইছে। তাছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলামের বিশেষ পরিকল্পনায় মাদরাসা শিক্ষার পালে হাওয়া লাগছে।

জিপিএস ম্যাপ কেনার হিড়িক, বেশি মাদরাসা

যে কোনো নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের অনুমতি দেওয়ার আগে আশপাশের এলাকায় জিপিএস ম্যাপের ভিত্তিতে নিকটতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দূরত্ব পরিমাপ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড। এজন্য শিক্ষা বোর্ডগুলোর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ জিপিএস ম্যাপ সরবরাহ করে শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)।

ব্যানবেইস সূত্র জানায়, গত চার মাসে ব্যানবেইস এ ধরনের ১০৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএস ম্যাপ সরবরাহ করেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮২টিই মাদরাসা। বাকি ২১টি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ব্যানবেইসের ২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী-বর্তমানে দেশে মোট মাদরাসার সংখ্যা ৯ হাজার ২৫৬টি। মাদরাসায় ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪১ লাখ ২৬ হাজার ৬২৬ জন, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান বলেন, সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষাব্যয় অনেক বেশি। সেই তুলনায় মাদরাসার শিক্ষায় খরচ কম। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের নৈতিক স্খলনজনিত সমস্যা বেড়েছে। এ নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সমস্যা কম। ফলে অভিভাবকদের অনেকে মাদরাসাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে মনে করি।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আবেদন বৃদ্ধি পাওয়াটা ভালো দিক। তবে আমরা সব যাচাই-বাছাই করেই তারপর অনুমোদন দেবো। কেউ যেন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খুলে বাণিজ্য করার সুযোগ না পায়, সেদিকে নজর থাকবে।’

বিজ্ঞাপন

এএএইচ/জেএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।