কাফনের কাপড় পরে পৌরসভা কার্যালয়ে সবজি ব্যবসায়ীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ১১ জুন ২০২০

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পৌর পাইকারি কাঁচা সবজির আড়ত শহরের নয়াবাজারে পুনঃস্থাপনের দাবিতে সৈয়দপুর পৌরসভা কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার কাফনের কাপড় পরে বেলা ১১টায় সৈয়দপুর পৌরসভা কার্যালয়ে যান তারা। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে সৈয়দপুর পৌরসভা মেয়রের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

পৌর মেয়রকে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃক শহরের নয়াবাজার এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর আগে পৌর পাইকারী কাঁচা সবজির আড়তটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সবজির আড়তটিতে কাঁচা শাক-সবজি, আলু, রসুন, আদা, পেঁয়াজ, মরিচ, লেবু, শসা প্রভৃতি পাইকারি বেচাবিক্রি হয়ে থাকে।

সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার ছাড়াও আশপাশের এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে এসে সৈয়দপুর পৌর পাইকারি সবজি আড়ত নয়াবাজারে বিক্রি করতেন। আর খুচরা সবজি বিক্রেতারাও এই পাইকারি আড়ত থেকে বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনে ভোক্তা সাধারণের কাছে বিক্রি করতেন।

কিন্তু কারোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ও জনসমাগম এড়াতে শহরের নয়াবাজার পৌর পাইকারি সবজি আড়তটি সৈয়দপুর-দিনাজপুর বাইপাস মহাসড়কের পাশে মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় ব্যক্তি মালিকাধীন একটি স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশে গত ১৩ মে সেখানে স্থানান্তর করা হয় বাজারটি। কিন্তু গত ৩১ মে সরকারি ছুটি তথা লকডাউন শিথিল করা হলে আড়তদার ব্যবসায়ীরা নয়াবাজার পাইকারি কাঁচা সবজির আড়তে পুনরায় ব্যবসা শুরু করেন। এ অবস্থায় গত ১০ জুন সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন সরকার স্থানান্তরিত নতুন জায়গায়ই বাজার বসানোর কথা জানান। সৈয়দপুর পৌর পাইকারি সবজি আড়তে কৃষি পণ্যের বেচাবিক্রির জন্য বলা হয়।

১৩ জুনের মধ্যে সব আড়তদার ব্যবসায়ীকে এ নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে। অন্যথায় এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও ঘোষণা করা হয়। এতে করে পৌর পাইকারি সবজি আড়দতার ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েন। তারা পৌর মেয়রের ওই ঘোষণা প্রত্যাহার এবং পৌর পাইকারি কাঁচা সবজি আড়ত নয়াবাজারে পুনঃস্থাপনের দাবি জানান।

পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন বলেন, সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন, পৌর পরিষদ ও পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে আলাপ আলোচনা করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

জাহিদুল ইসলাম/এফএ/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।