কারাগারে ময়মনসিংহের সাবেক প্যানেল মেয়র ডন

জামিনের পর কারাফটক থেকে ফের গ্রেফতার ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আসিফ হোসেন ডনসহ ১২ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
আদালতের পরিদর্শক পীরজাদা মো. মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, বিকেলে আসিফ হোসেন ডনসহ অন্যান্যদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এসময় বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসিফ হোসেন ডন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের এক নম্বর প্যানেলের সাবেক মেয়র ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
কারাগারে যাওয়া অন্যরা হলেন- মো. রুবেল মিয়া, মো. শরীফ, মো. বাছিরুল আমিন ইভান, বাবুল মিয়া, মো. লিটন আল সাগর, নন্দ পাল, মো. সুলতান মাহমুদ, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. শহীদুল ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ আকন্দ ও নাজমা খাতুন। তারা সদরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সদরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসামি আসিফ হোসেন ডন। তিনি প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। তাকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার করা হয়।
আসিফ হোসেন ডন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রেদোয়ান আহমেদ সাগরকে হত্যা, বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনের মামলার আসামি। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। পরে তার অবস্থান জানতে পেরে ২৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার আজমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর ডনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৫ ডিসেম্বর আদালত জামিন দিলে আবারও পালিয়ে যান তিনি। ২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার দিকে নগরীর পাটগুদাম এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
এসময় ডনকে বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে থাকাকালীন হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার পর রোববার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে তাকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কিছুক্ষণের মধ্যেই কারাফটক থেকে তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
কামরুজ্জামান মিন্টু/জেডএইচ/এএসএম