অবস্থান কর্মসূচি
কাঁথা-কম্বল নিয়ে চরের বালুতে বিছানা পেতেছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ

‘তিস্তার পানি না দিলে মুই বাড়িত যাইম না। মোর বাড়িঘর সাতবার ভাঙ্গি গেইছে। মুই এলা পথের ফকির। বাড়ি বাড়ি কামলা দিয়া কোন মতন সংসার চালান। ঘরত পাঁচজন সদস্য।’ এভাবে কথাগুলো বলছিলেন তিস্তা পাড়ের কদম আলী।
তিস্তার পানি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে কাঁথা-কম্বল নিয়ে তিস্তার বালুচরে বিছানা পেতেছেন চরের ভাঙন কবলিত হাজারো মানুষ। তারা ৪৮ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচিতে কাঁথা-কম্বল ও থালা-বাসন নিয়ে হাজির হন তিস্তা পারে। তাবুর নিচে বালুচরে রাতযাপন করেন তারা।
মঙ্গলবার (১৮ফেব্রুয়ারি) সকালে এ দৃশ্য দেখা যায়।
জানা যায়, অবস্থান কর্মসূচির শেষদিন মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রয়েছে পদযাত্রা ও মশাল প্রজ্বলন। এদিন বেলা তিনটায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর রায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বক্তব্য রাখবেন। বিকেল পাঁচটায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তারেক রহমান বক্তব্য রাখবেন ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে।
জানা গেছে, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে তিস্তা পাড়ে রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় বৃহৎ আন্দোলন করছে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন। উত্তরের পাঁচ জেলার তিস্তার চরের ১১টি স্থানে ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হয়।
লালমনিরহাট জেলায় তিস্তার ৬৭ কিলোমিটারে পাঁচ স্থানে ৫০ হাজার মানুষ কাঁথা-কম্বাল নিয়ে পানিশূন্য নদীর বালুতে রাতযাপনের জন্য তাঁবু পেতেছেন। তারা তিস্তাপাড়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দাবি বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগসহ বিশ্ব পরিমণ্ডলে তিস্তার দুঃখ তুলে ধরবেন।
পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মানিক বলেন, দুলু (আসাদুল হাবীব দুলু) ভাইয়ের ডাকে আমরা এই তিস্তা চড়ে এসে অবস্থান করছি। প্রতিবছর বর্ষাকালে আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলের জমি সবকিছুই নদীর গর্ভে যায়। তাই আমাদের এই আন্দোলন পানির ন্যায্য হিস্যা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চাই।
তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচির প্রথম দিনেই আমরা সফল হয়েছি। এই আন্দোলন জনদাবিতে পরিণত হওয়ায় এতে তিস্তাপাড়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে। তিস্তা পারে দল মত নির্বিশেষে সবাই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
রবিউল হাসান/এফএ/জিকেএস