বৃদ্ধির ২৪ ঘণ্টা পর কমতে শুরু করেছে তিস্তার পানি

হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধির ২৪ ঘণ্টা পর কমতে শুরু করেছে। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার পর থেকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ কমতে শুরু করেছে।
এর আগে শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে তিস্তার পানি হু-হু করে বাড়তে থাকে। এতে হতবাক হয়ে পড়ে তিস্তা পাড়ের মানুষ।
এদিকে সেচ প্রকল্পের দুটি এবং ব্যারাজের ভাটিতে দুটি জলকপাট খোলা রয়েছে।
দুপুর ১২টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে ৫০ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের সকাল ৭টায় পানির প্রবাহ ছিল ৫০ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৪ ঘণ্টায় উজান থেকে ৮০০ কিউসেক পানি তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত তিনদিন পূর্বে তিস্তার পানি ছিল প্রায় ১৫ শত কিউসেক। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২৩০০ কিউসেক পানি তিস্তার ব্যারাজ পয়েন্টে দেখা দেয়।
খরা মৌসুমে হঠাৎ তিস্তার পানি বাড়ায় তিস্তা চরের কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করে। পানি বৃদ্ধির ফলে জেগে থাকার বালু চরগুলো নিমিষে তলিয়ে যায়।
অপরদিকে তিস্তার পানি ন্যায্য হিসাব দাবি আদায়ে ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিস্তা নদী রক্ষার ব্যানারে তিস্তা পারে আগামী ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি ৪৮ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তিস্তা পাড়ের সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপ অপারেটর নুরুল ইসলাম বলেন, উজান থেকে প্রায় ৮০০ কিউসেক পানি তিস্তা ব্যারেজে প্রবেশ করে। সকাল থেকে তিস্তার পানি আবারও কমতে শুরু করেছে।
তিস্তা পাড়ের জেলে কদম আলী বলেন, ভারত ইচ্ছে করে তিস্তার পানি ছেড়ে দিয়েছে। যাতে আমরা আন্দোলন করতে না পারি।
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সদস্য ও বড়খাতা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রহমান বলেন, ভারত পানি ছেড়ে দিয়ে তিস্তা পারে ৪৮ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচিকে বাঁধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। ভারত যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন আমাদের অবস্থান কর্মসূচিতে কোনভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
তিস্তা নদীরক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আমি জানি না ভারত কী উদ্দেশ্যে পানি ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন। আমাদের আন্দোলন থেকে পিছু হটাতে পারবে না। তিস্তা পাড়ের ৫ জেলার মানুষ জেগে উঠেছে।
রবিউল হাসান/আরএইচ/জেআইএম