আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা নির্বাচনে অস্থিরতার খবর

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ভোট চলছে। প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গের তিন কেন্দ্র জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে চলছে ভোট। দেশের মোট ২১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ১০২টি আসনে ভোট হচ্ছে। এবার মোট সাত দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Advertisement

এদিকে ভোট শুরুর আগে বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তির খবর সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ ভোটারকে ভয় দেখানো এবং বাড়ি ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

পাশাপাশি কোচবিহার মাথাভাঙায় রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে এক সিআরপিএফ জওয়ানের।বৃহস্পতিবার রাতে নীলেশ কুমার নীলু নামের ওই জওয়ান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

মাথাভাঙ্গার বাইশগুড়ি হাইস্কুলে তিনি কুইক রেসপন্স টিমের দায়িত্বে ছিলেন। রাতে হঠাৎ তার নাক, মুখ দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা দেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ৪২ বছর বয়সী ওই জওয়ানের বাড়ি বিহারের নওয়াদা জেলায় বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

এদিকে জলপাইগুড়ি জেলার ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের সিপাইপাড়া এলাকায় বিজেপির একটি বুথ অফিসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে কে বা কারা রাতে বিজেপির বুথ অফিসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

দলীয় পতাকা থেকে ব্যানার সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এলাকার বুথ সভাপতি তথা বিজেপি কর্মী গৌতম রায় বলেন, রাত ৯টার পর এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা রাত পর্যন্ত সব কাজকর্ম শেষ করে বাড়ি ফিরি। তারপরই এই খবর পাই। ভোরবেলা এসে দেখি এই অবস্থা। কিন্তু আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। কাউকে দেখিনি। তাই কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারছি না। পুরো ঘটনা প্রশাসনসহ এলাকার বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়কে জানানো হয়েছে।

ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৭ টায়, শেষ হবে সন্ধ্যা ৬ টায়। এই দফায় পুরো দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৬ কোটি ৬৩ লাখ। মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ভোট গ্রহণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ভোট নেওয়া হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। ভোটারদের সুষ্ঠুভাবে ভোটদানের জন্য প্রায় ১৮ লাখ ভোট কর্মী মোতায়েন রয়েছেন।

প্রথম দফায় দেশ জুড়ে ১৬২৫ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এর মধ্যে ১৪৯১ জন পুরুষ প্রার্থী, এবং ১৩৪ জন নারী প্রার্থী। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ৮ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, ২ জন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং একজন সাবেক রাজ্যপাল।

Advertisement

এদের মধ্যে অন্যতম সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি (নাগপুর কেন্দ্র), কেন্দ্রীয় ভূ-বিজ্ঞান ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (অরুণাচল পশ্চিম), কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল (দিব্রুগড়) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিজেপি প্রার্থী নিশীত প্রামাণিক (কোচবিহার) অন্যতম।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের পুত্র কংগ্রেসের কার্তি চিদাম্বরম (শিবগঙ্গা), কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ (জোরহাট), লোকজনশক্তি পার্টির প্রধান চিরাগ পাসওয়ান (জামুই), ডিএমকে প্রার্থী কানিমোঝি করুণানিধি (থুট্টুকুড়ি), ডিএমকে প্রার্থী দয়ানিধি মারাণ (চেন্নাই সেন্ট্রাল)।

ভোট শুরুর আগেই যুবসমাজ এবং নতুন ভোটারদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন রাজ্যের মোট ৪২ লোকসভার আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ভোট হচ্ছে তিন কেন্দ্রে। তিনটি কেন্দ্রেই ত্রিমুখী লড়াই (তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস জোট) হলেও নজর থাকবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে। গত নির্বাচনে এই তিনটি আসনই বিজেপির দখলে ছিল, দ্বিতীয় স্থানে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

আরও পড়ুন:

রাত পোহালেই ভোট, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ইশতেহার, ‘দিদির ১০ শপথ’ পূরণের অঙ্গীকার ‘মোদীর গ্যারান্টি জিরো, আমাদের গ্যারান্টি হিরো’ ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার ‘অপব্যবহার’ হচ্ছে?

প্রথম দফার ভোট শেষে আগামী ২৬ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায়, ৭ মে তৃতীয় দফায়, ১৩ মে চতুর্থ দফায়, ২০ মে পঞ্চম দফায়, ২৬ মে ষষ্ঠ দফায় এবং সপ্তম শেষ দফার ভোট হবে আগামী ১ জুন। এর মধ্যে প্রথম দফায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। ভোট গণনা হবে আগামী ৪ জুন।

ডিডি/টিটিএন