বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কমতে শুরু করেছে বরগুনার প্রধান নদ-নদীর পানি। শনিবার (৫ আগস্ট) বিকেলে বরগুনার খাকদোন নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার এবং বিষখালী নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
Advertisement
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, এর আগের দিন (শুক্রবার) খাকদোন নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার এবং বিষখালী নদীর পানি ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বরগুনার প্রধান নদ-নদীর পানি প্রবাহ হঠাৎ বাড়তে থাকে। পরদিন সকালে সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে বিষখালীর নিম্নাঞ্চলের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ডুবে যায় কৃষকের ফসল। তবে বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করে।
এদিকে, এখনো জেলার অনেক নিচু এলাকা তলিয়ে থাকায় বীজতলা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বরগুনা জেলার তিনটি ফেরিঘাট, বেশ কয়েকটি চরাঞ্চল, নিচু বেড়িবাঁধ উপচে পানি ঢুকে বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী, আঙ্গুলকাটা, জেলেপাড়া, বালিয়াতলী, ঘোপখালী, পশুরবুনিয়া, গাজীপুর, কলাগাছিয়া গ্রামে বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরতদের বাড়িতে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও মাছের ঘের।
Advertisement
বরগুনা সদর উপজেলার মাঝেরচর এলাকার কৃষক আলমগীর মিয়া বলেন, আমনের বীজতলা থেকে পানি নেমে গেছে। রাস্তাঘাট থেকেও পানি নেমে গেছে। কিন্তু কাদা হওয়ায় চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
একই এলাকার বাসিন্দা কলেজ শিক্ষার্থী রিমন হাওলাদার বলেন, আমরা চরাঞ্চলের মানুষ সবসময় বিপদের মুখে থাকি। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। মজবুত বেড়িবাঁধ না থাকায় সবসময় আমাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। তাছাড়া বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ার ভেতরে-বাইরে কাঁদা। এজন্য চলাচল করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক মাহাতাব হোসেন বলেন, জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করি, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। তবে পানি প্রবাহ কয়েকদিন এমন থাকবে।
এমআরআর/জেআইএম
Advertisement