গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের পূর্বঘোষিত বিশেষ জরুরি সভায় ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দলটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান। দলের চলমান সংকট নিরসনে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই দলটির জাতীয় কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
Advertisement
শনিবার (১ জুলাই) বেলা ১১টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ জরুরি সভা থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সম্মতির ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘বিশৃঙ্খলা এড়াতে’ জরুরি সভায় এলেন না রেজা কিবরিয়া
এদিন বিকেলে গণঅধিকার পরিষদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদের ছুটিতে যানবাহন সংকট ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে অন্য সদস্যরা উপস্থিত হলেও সভা ডেকে আহ্বায়ক অনুপস্থিত থাকেন। এ অবস্থায় সভায় উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খানকে সভার সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়। সদস্য সচিব নুরুল হক নুর সভা সঞ্চালনা করেন।
Advertisement
এর আগে দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ড. রেজা কিবরিয়া জানান, বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে জরুরি সভায় অংশ নেননি তিনি।
আরও পড়ুন: রেজা কিবরিয়া ‘আম্মো সুশীল’, নুরের ‘ভবিষ্যৎ সুবিধার না’
বিজ্ঞপ্তিতে রেজা কিবরিয়া বলেন, আমি নিজেও সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলাম। বিভিন্ন সোর্স থেকে জানতে পারলাম ভিপি নুর একই সময়ে আরও তিনটি সভা ডেকেছেন। আমি আরও জানতে পারলাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সারাদেশ থেকে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী ও বহিরাগত লোক এনে কার্যালয়ের আশপাশে জড়ো করেছেন।
গত ২৫ জুন দলের গঠনতন্ত্রের ৩৮ ধারা অনুযায়ী গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ৮৪ সদস্যের সইসহ আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সদস্যদের কাছে বক্তব্য চেয়ে এ জরুরি সভা ডাকা হয়েছিল।
Advertisement
আরও পড়ুন: সরকারের সঙ্গে নুরের ‘আঁতাতের’ ইঙ্গিত রেজা কিবরিয়ার
সভায় গঠনতন্ত্রের ধারা ৩৮, ১৮ (গ) এর (১) (৩) ও (৮), ৩৪ (ঙ) এবং ৪১ এর ক্ষমতাবলে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
১) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য আহ্বায়কের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব সমর্থন করায় আহ্বায়ককে অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
২) দলের চলমান সংকট নিরসনে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই দলের উচ্চতর পরিষদ ও জাতীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
আরও পড়ুন: এবার নুর-রাশেদকে অব্যাহতি দিলেন রেজা কিবরিয়া
৩) কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলের পূর্ব পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব রুটিন মাফিক নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।
সম্প্রতি দলের আর্থিক অস্বচ্ছতাসহ নানা ইস্যুতে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে নুরুল হক নুরের মতপার্থক্য তৈরি হয়। সরকারের সঙ্গে নুরের ‘আঁতাতের’ ইঙ্গিত করেন রেজা কিবরিয়া। তাদের মধ্যে বিরোধের জেরে গণঅধিকার পরিষদে একদিকে বহিষ্কার অন্যদিকে অনাস্থা প্রস্তাব, এমন পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ চলছে।
আরও পড়ুন: ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ, রেজা কিবরিয়া বললেন ‘অবৈধ’
এরই মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক পদে রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাকে চিঠি দেন নুরের সমর্থকেরা। এর আগে গত ২০ জুন দলের সদস্য সচিবের পদ থেকে নুরকে বহিষ্কার করেন রেজা কিবরিয়া।
এমকেআর/এমএস