দেশজুড়ে

সিলেটে হত্যার ১৫ বছর পর তিনজনের যাবজ্জীবন

সিলেট নগরের বন্দরবাজারে বাইসাইকেল মিস্ত্রি আবুল কালামকে হত্যার দায়ে তিন আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

Advertisement

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. শাহাদৎ হোসেন প্রামাণিক হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পর আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি এলাকার সবুজ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পাঁচপীর গ্রামের আতর মিয়ার ছেলে লাল মিয়া ওরফে লালু ও চাঁদপুর জেলার মতলব থানার বইয়েরা গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে ও বর্তমানে সিলেট নগরের কানিসাইল বাবুল মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ঝাড়ু মিয়া।

জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল।

Advertisement

তিনি জানান, মামলার সাজাপ্রাপ্ত সব আসামি পলাতক রয়েছেন। এদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য দাবি জানাচ্ছি। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী ঝর্ণা বেগম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে সিলেট নগরের বন্দরবাজারে বাইসাইকেল মিস্ত্রি (মেরামতকারী) আবুল কালামকে (৪০) দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। তিনি নগরের কাজিটুলা এলাকার দুলু মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ও মৃত ইছরাব আলীর ছেলে। কালাম বন্দরবাজারে একটি দোকান দিয়ে বাইসাইকেল মেরামতের কাজ করতেন।

ঘটনার পর কালামের স্ত্রী সুমনা খাতুন বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৮ সালের ৯ মে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সাইদ উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট নম্বর-৩৩৬) দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি একই মামলায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র (চার্জশিট নম্বর-১২৪) দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোকনুজ্জামান।

মামলাটি বিচারের জন্য ২০১৩ সালে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হলে বিচারকার্য শুরু হয়। মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার এ রায় দেওয়া হলো।

Advertisement

ছামির মাহমুদ/এফএ/এএসএম