বিনোদন

শুভ জন্মদিন প্রিয়দর্শিনী

যে প্রিয় মানুষের দর্শনে চোখ জুড়ায়, মন কেমন কেমন করে কিংবা যুবকের বুকের বামপাশে জমা হয় একরাশ উদাসী দীর্ঘশ্বাস- তিনিই তো প্রিয়দর্শিনী। হ্যাঁ, ঢাকাই ছবিতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শক মুগ্ধ করে এই উপমাটি তিনি নিজের করে নিয়েছেন। বলছি মৌসুমীর কথা। আজ এই নন্দিত চিত্রনায়িকার জন্মদিন।সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকেই মৌসুমী ভেসে যাচ্ছেন ভক্ত-অনুরাগীদের ভালোবাসা আর শুভেচ্ছায়। সেইসঙ্গে পরিবার ও বন্ধু-কাছের মানুষরা কেউ ফোনে, কেউ সরাসরি উপস্থিত হয়ে আরো একটি নতুন বসন্তে স্বাগত জানিয়েছেন তাকে- বললেন মৌসুমী। তবে তার কাছে স্পেশাল ‌‌হলো নিজের স্বামী ওমর সানী ও দুই সন্তান ফাইজা-ফারদিনের কাছে থেকে পাওয়া শুভেচ্ছা।নিজের জন্মদিন প্রসঙ্গে মৌসুমী জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘এবারের জন্মদিন ঘরে বসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই চুপচাপ কাটাবো। আওলাদ ভাইয়ের মৃত্যু, আদিল ভাইয়ের মৃত্যু, আমাদের দিতি আপা অসুস্থ, রিয়াজ অসুস্থ! এতসব প্রিয় মানুষদের বিয়োগ-অসুখে কী আনন্দ করবো? কীভাবে?’জন্মদিনে বাবার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বাবা যখন বেঁচে ছিলেন তখন প্রতিটি জন্মদিনই আমার অনেক চমৎকারভাবে কাটতো। আব্বু আমাকে নানানভাবে সারপ্রাইজড করতেন, আমি মুগ্ধ না হয়ে পারতাম না। আব্বু নেই, তাই এখন জন্মদিন নিয়ে আমার তেমন কোনো পরিকল্পনা থাকে না। তবে আম্মু মন খারাপ করেন বিধায় আমার স্বামী, আমার দুই সন্তান ফারদিন-ফাইজা জন্মদিনে আমাকে সারপ্রাইজড দেবার চেষ্টা করে। এটাই আমার খুব ভালো লাগে।’মৌসুমীর পুরো নাম আরিফা পারভীন মৌসুমী। ১৯৭৩ সালে ৩ নভেম্বর খুলনায় তার জন্ম। বাবা নাজমুজ্জামান মনি ও মা শামীমা আখতার জামান। মৌসুমী ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাদের ফারদিন এহসান স্বাধীন (ছেলে) এবং ফাইনা (মেয়ে) নামের দুই সন্তান রয়েছে।মৌসুমী ছোটবেলা থেকেই একজন অভিনেত্রী এবং গায়িকা হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি ‘আনন্দ বিচিত্রা ফটো বিউটি কনটেস্ট’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন, যার উপর ভিত্তি করে তিনি ১৯৯০ সালে টেলিভিশনের বাণিজ্যিকধারার বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে হাজির হন।আর চিত্রনায়িকা হিসেবে ঢাকাই চলচ্চিত্রে মৌসুমীর অভিষেক হয় ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই সিনেমায় সালমান শাহ’র সঙ্গে জুটি হন এ অভিনেত্রী। প্রথম ছবিতেই নিজেদের মেধার জানান দেন সালমান শাহ ও মৌসুমী। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দুজনেই ঢালিউডে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।তারপর দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঢালিউডে মেধার দ্যুতি ছড়াচ্ছেন মৌসুমী। প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘলা আকাশ’ও চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সালমান শাহ’র সঙ্গে জুটি বেঁধে ক্যারিয়ার শুরু করা মৌসুমী সফল হয়েছেন ওমর সানী, রিয়াজ, ফেরদৌস, ইলিয়াস কাঞ্চন ও মান্নার সঙ্গে জুটি বেঁধে।অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবেও সাফল্য দেখিয়েছেন মৌসুমী। ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ মৌসুমী পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র। তারপর তিনি ২০০৬ সালে মেহের নিগার চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন। সম্প্রতি তিনি নির্মাণ করছেন ‘শূন্য হৃদয়’ নামের একটি চলচ্চিত্র। পাশাপাশি ‘ভালোবাসবোই তো’ নামের একটি চলচ্চিত্রের পরিচালনাও করছেন তিনি। এই ছবিটি ছিলো প্রয়াত পরিচালক বেলাল আহমেদের নির্মাণাধীন শেষ ছবি। তার মৃত্যুর পর ছবিটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার কাজটিও করতে হচ্ছে মৌসুমীকে।অভিনয়ের বাইরে একজন মডেল হিসেবেও তার জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়া। লাক্স, তিব্বতসহ বিভিন্ন সময় তাকে দেখা গেছে অসংখ্য পণ্যের বিজ্ঞাপনে। বর্তমানে তিনি দেশের বৃহত্তম প্লাস্টিক হাউজহোল্ড, কাস্ট আয়রন, পিভিসি, ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচার সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আরএফএল এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন।শোবিজের বাইরে মৌসুমী একজন আদর্শ গৃহিণী, আদর্শ মা। পাশাপাশি তিনি নিজেকে জড়েয় রেখেছেন নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডেও। ‘মৌসুমী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান দেখাশুনা করেন তিনি। বাংলাদেশের শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনমত ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউনিসেফ অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব পালন করছেন মৌসুমী।মৌসুমী অভিনীজ ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মৌসুমী, দোলা, আত্মঅহংকার, স্নেহ, প্রথম প্রেম, দেনমহর, অন্তরে অন্তরে, বিদ্রোহী বধু, মুক্তির সংগ্রাম, হারানো প্রেম, ভাংচুর, সাজন, শেষ খেলা, আত্মত্যাগ, বিশ্ব প্রেমিক, গরিবের রাণী, প্রিয় তুমি, রাক্ষস, সুখের স্বর্গ, আদরের সন্তান, সুখের ঘরে দুখের আগুন, লুট তরাজ, আম্মাজান, শান্তি চাই, অন্ধ ভালোবাসা, মিথ্যা অহংকার, ঘাত প্রতিঘাত, সংসারের সুখ দুঃখ, প্রিয় শত্রু, লাট সাহেবের মেয়ে, লজ্জা, তুমি সুন্দর, বাঘের বাচ্চা, রূপসী রাজকন্যা, মোল্লা বাড়ির বউ, গোলাপী এখন বিলাতে, একজন সঙ্গে ছিল ইত্যাদি।এনই/বিএ

Advertisement