খেলাধুলা

সাকিব-তামিম নয়, যাকে সামলাতে হিমশিম খান কোচ সালাউদ্দিন

দেশের ক্রিকেটের দুই বড় তারকা সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের গুরু তিনি, দুজনই তার শিষ্য। এর মধ্যে সাকিব বিকেএসপিতে তার ছাত্র আর চট্টগ্রামের অভিজাত ক্রীড়া পরিবারের ছেলে তামিম ইকবাল বিকেএসপির ছাত্র না হয়েও কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনেক কাছের, তারও গুরু সালাউদ্দিন।

Advertisement

খেলোয়াড়ি জীবনের যেকোন সমস্যা, ফর্মহীনতায় তাদের ভরসা সালাউদ্দিন স্যার। সবার আগের ছুটে যান সালাউদ্দিন স্যারের কাছে। গতবছর বিশ্বকাপের আগে আইপিএলের সময় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলার সময় গুরু সালাউদ্দিনকে ভারতে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সাকিব।

সেখানে গুরুর অধীনে নিবিড় অনুশীলনও করেছেন। অনেকেরই ধারণা বিশ্বকাপে সাকিবের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপূন্যের পেছনে গুরু সালাউদ্দীনের ঐ নিবিড় পরিচর্যা ও তার অধীনে অন্যরকম অনুশীলনটা রেখেছে বড় ভূমিকা।

তামিম ইকবালও বরাবরই সালাউদ্দিন স্যার ভক্ত। তারও ছোটখাট সমস্যায় সবচেয়ে বড় নির্ভরতা কোচ সালাউদ্দিন। বছরের প্রায় পুরো সময় স্যারের সঙ্গে খেলা নিয়ে কথা হয় তাদের। নিজেদের ভাল-মন্দ নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনাও করেন। কোন ভুল চোখে পড়লে তা শুধরে দেন।

Advertisement

এ দুই জাতীয় ক্রিকেটারের পাশাপাশি আরও একজন কোচ আছেন যিনি মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের অনেক কাছের। তার সঙ্গেও বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় ক্রিকেট নিয়ে অনেক কথা হয়। ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে তার সঙ্গে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়।

তিনি নাফিসা কামাল, বিপিএলের দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের স্বত্বাধীকারি। সালাউদ্দিন যেহেতু কুমিল্লার কোচ, তাই বিপিএলের পুরো সময় দল নিয়ে দলের আনুসাঙ্গিক সকল বিষয় নিয়ে নাফিসা কামালের সঙ্গে অনেক কথা বলতে হয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, নাফিসা কামাল দেশবরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তিত্ব আ হ ম মোস্তফা কামালের ছোট মেয়ে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিপিএল এলে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি নাফিসা কামালকেও সামলাতে হয় কোচ সালাউদ্দিনের।

বুধবার রাতে ক্রিকফ্রেঞ্জির ফেসবুক লাইভে প্রশ্ন উঠল, সাকিব, তামিম ও নাফিসা কামাল- তিনজনের ভেতরে আসলে কাকে সামলানো বেশি কঠিন? সঞ্চালক কাজী সাবিরের এ প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিনের হাসিমাখা উত্তর, ‘তামিম, সাকিব আর নাফিসা কামালের ভেতরে নাফিসা কামালকে সামলানোই বেশি কঠিন।’

Advertisement

এটুকু শুনে মনে করবেন না, কোচ সালাউদ্দিন বুঝি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অমন কথা বলেছেন। মোটেও তা নয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক নাফিসা কামাল ক্রিকেটের প্রতি অনেক বেশি নিবেদিত প্রাণ। বিপিএলের সময় নাফিসা কামালের আবেগ অনেক বেশি কাজ করে। কখনও কখনও আবেড়তাড়িৎ হয়ে নাফিসা তার (সালাউদ্দিন) সঙ্গে ঝগড়াও করেন। তবে দুয়েক দিনের মধ্যে তা ঠিকও হয়ে যায়।

একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে সালাউদ্দিনের মূল্যায়ন, ‘নাফিসার পুরো পরিবারই আসলে ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ। বিপিএল তাদের গোটা পরিবারের কাছে যেন অন্য কিছু। ভালোবাসা এতটাই প্রবল যে, আমার মনে হয় ঈদের চেয়েও তাদের পরিবারে বিপিএলের আনন্দ বেশি। এখানে তাদের গোটা পরিবার সম্পৃক্ত থাকে। কুমিল্লার ব্যাপারে নাফিসার পুরো পরিবারের আবেগ, ভালবাসা অন্যরকম। তারা হারতে চায় না, জিততে হবে এবং মজাও করবে। আমরা যে আড়াই-তিন মাস থাকি তখন তারা সবার সঙ্গে প্রাণ খুলে মিশে।’ নাফিসার সম্পর্কে বলতে গিয়ে সালাউদ্দিনের ভাষ্য, ‘খেলার ব্যাপারে সে অনেক বেশি সম্পৃক্ত, অনেক ক্রিকেটারকে চেনে। অনেক সময় আমাকে বলে, আপনি তো প্লেয়ার চেনেন না। বিপিএলের সময় প্র্যাকটিস ও খেলা ছাড়া আমরা পুরো দল মিলে একসঙ্গে অনেক সময় কাটাই, নাফিসাও তাতে অংশ নেয়। খেলা নিয়ে কথা বলি, আড্ডা দেই। আমরা অনেক সময় ঝগড়া করি। মাঝেমাঝে অনেক রাগ হয়ে যায়। আমি বুঝি, তাই রিয়্যাকশন দেখাই না। জানি দুইদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। আসলে বিপিএলের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক নাফিসার।’

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসে কাজ করতে ভালো লাগে জানিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘হয়তো কখনও মতপার্থক্য হয়। তবে শেষ কথা হলো, কুমিল্লা আমার মতমতকে গুরুত্ব দেয়। আমার চিন্তাচেতনা ও পরিকল্পনা প্রাধান্য পায়। সেটা অন্যরকম ভাল লাগার।’

এআরবি/এসএএস/পিআর