বাংলাদেশে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের মধ্যে তালিকা করলে সবার আগে চলে আসে হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’র নাম। এরপর আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানের নাম উল্লেখ করার মতো। সেগুলো হচ্ছে আবদুন নূর তুষারের ‘শুভেচ্ছা’ ও আনজাম মাসুদের ‘আজকাল’। তিনটি অনুষ্ঠানই বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হতো দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে থেকে।
Advertisement
সময়ের পরিক্রমায় শুভেচ্ছা ও আজকাল বন্ধ হলেও ইত্যাদি এখনও সাড়ম্বর আয়োজনে নিয়মিতই প্রচার হয়। তবে আনজাম মাসুদ গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বিটিভিতে আরও একটি অনুষ্ঠান নিয়ে চ্যানেলটিকে আলোচনার তালিকায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানের নাম ‘পরিবর্তন’।
ইত্যাদির তুলনায় একেবারে নগণ্য বাজেট নিয়ে তৈরি পরিবর্তন বিটিভির দর্শক-চাহিদার তুঙ্গে ছিল বলা যায়। এ সীমিত বাজেট দিয়েও আনজাম মাসুদ অনুষ্ঠানটিকে বেশ দর্শকপ্রিয় করে তুলেছিলেন।
জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানটির ৩৭টি পর্ব করার পর এর নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছেন আনজাম মাসুদ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠানটির নিয়মিত পর্ব প্রচার হওয়ার কথা থাকলেও সেই শিডিউলে বিটিভিতে অন্য অনুষ্ঠান প্রচার হয়। কারণ ৩৮তম পর্ব তৈরি করেননি এ নির্মাতা ও উপস্থাপক। বিটিভি কর্তৃপক্ষকে তিনি লিখিত জানিয়েছেন, পরিবর্তন নির্মাণ কিংবা উপস্থাপনা করতে তিনি আর ইচ্ছুক নন।
Advertisement
হঠাৎ করে এমন একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছেড়ে দেয়া প্রসঙ্গে আনজাম মাসুদ বলেন, ‘মিডিয়া আমার নেশা এবং পেশা। এর বাইরে আমি কিছু করি না। অনুষ্ঠান নির্মাণ ও উপস্থাপনা, বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট- এগুলোই আমার কাজ। পরিবর্তনের একটি পর্ব করতে আমার মাসে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় কেটে যায়। তার বিনিময়ে আমি যে পারিশ্রমিক পাই রাষ্ট্রীয় শিল্পী সম্মানী কাঠামো অনুযায়ী তা খুবই নগণ্য।
তারপরও ৩৭ পর্ব তৈরি করতে গিয়ে কমপক্ষে ৮ বার বাজেট কমানো হয়েছে। জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করা হয়। প্রতি পর্বে শিল্পী-কলাকুশলীদের অনুরোধ করে করে কাজটি করি। নিজের কাছে খারাপ লাগে বারবার অনুরোধ করতে। তাই আমি নিজ থেকে চিঠি দিয়ে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছি। যদিও মহাপরিচালক মহোদয় আমার চিঠি গ্রহণ করেননি, কিন্তু আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি অনুষ্ঠানটি আমি আর করব না। যার ফলে এ মাসে অনুষ্ঠানটি প্রচার হয়নি।’
বাজেট বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আবেদন করেছেন কী না এমন প্রশ্নে আনজাম মাসুদ বলেন, ‘বাড়াতে বলব কী, উল্টো ৮ বার কমানো হয়েছে। মানসম্মত অনুষ্ঠান নির্মাণে বিটিভি যদি বাজেট না বাড়ায়, যোগ্য শিল্পী সম্মানী না দেয় তবে যত পরিকল্পনাই করুক চ্যানেলটি কোনোদিন সেই অর্থে দর্শকপ্রিয়তা পাবে না। আমার ব্যক্তি কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই।’
নতুন কোনো চ্যানেলে নতুন কোনো অনুষ্ঠান নিয়ে আসবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিডিয়া আমার নেশা এবং পেশা। বিশেষ করে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং উপস্থাপনা। নিজেকে এখান থেকে বিরত রাখতে পারব না। অচিরেই নতুন কোনো অনুষ্ঠান নিয়ে জনপ্রিয় কোনো চ্যানেলে হাজির হব। তখন আশা করি, শিল্পী-কলাকুশলীরাও যথারীতি আমাকে সহযোগিতা করবেন।’
Advertisement
এলএ/এমএস