কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় গভীর রাতে মা-বাবার পাশ থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় চুরি হওয়া মাসুদুর রহমান নামে ১১ মাস বয়সের শিশুটি ২৪ ঘণ্টা পর ফিরে পেয়েছে মায়ের কোল।
Advertisement
শনিবার রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে মনোহরগঞ্জ উপজেলার কেশতলা গ্রামের রাস্তার পাশের একটি মসজিদের পেছন থেকে কান্নারত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
হারানো সোনার মানিককে ফিরে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে মা-বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের একমাত্র সন্তানকে ফিরে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন ওই দম্পতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে উপজেলার মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের শ্রীয়াং দক্ষিণ পাড়ার রাজন ভূঁইয়া বাড়ির শফিকুর রহমান ও স্ত্রী সালমা বেগম শিশুটিকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গত শনিবার ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় অজ্ঞাত চোরেরা কৌশলে ঘরের দরজা খুলে মা-বাবার পাশ থেকে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে সন্তানকে না পেয়ে মা-বাবা কান্নাকাটি করতে থাকেন। এ সময় বাড়ির লোকজন ছুটে আসে। আশপাশের ঘরে খোঁজাখুঁজির পর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়। সংবাদ পেয়ে কুমিল্লা জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (লাকসাম সার্কেল) ইমরান রহমানসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
Advertisement
ওই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। শনিবার রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে মনোহরগঞ্জ উপজেলার কেশতলা গ্রামের রাস্তার পাশের মসজিদের পেছনে একটি শিশুর কান্নার শব্দ পেয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি জানান মসজিদের ইমাম। আশপাশের লোকজন এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ শিশুটিকে থানায় নিয়ে আসে এবং রোববার আদালতের মাধ্যমে মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় হারানো সন্তানকে ফিরে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা।
এলাকাবাসী জানায়, ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের কোনো সন্তান নেই। একটি সন্তানের আশায় তারা দীর্ঘদিন ঘুরেছেন ডাক্তার-কবিরাজ, ফকির-দরবেশসহ নানা চিকিৎসালয়ে। বহু চিকিৎসার পর অবশেষে ১১ মাস আগে তাদের কোলজুড়ে একটি পুত্রসন্তান আসে। সে সন্তানটি শনিবার রাতে চুরি হয়ে যায়।
এ বিষয়ে লাকসাম থানা পুলিশের ওসি মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, চুরি হওয়া শিশুটিকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশের একটি মসজিদের পেছন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মো. কামাল উদ্দিন/এএম/জেআইএম
Advertisement