রাজনীতি

এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি মান্নার

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার উদ্ধৃতি দিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, সেটা অত্যন্ত কম করে দেখানো হয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সব রোগী সরকারি নজরদারির মধ্যে নেই। চিকিৎসা নিতে আসা মাত্র ২ শতাংশ রোগী সরকারি নজরদারির মধ্যে পড়েন। ৯৮ শতাংশের কোনো তথ্য থাকে না। আবার আক্রান্তদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই চিকিৎসা নেয় না।’

Advertisement

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় মুক্তি মঞ্চ আয়োজিত ‘দেশের সার্বিক বিরাজমান পরিস্থিতি— উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব বলেন।

আরও পড়ুন >> স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি বিএনপির

মন্ত্রী ও মেয়র অনর্থক বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাদের দোষারোপ করেছেন— এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারের কারণে দেশ আজ এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে আছে। সারা বিশ্বের মিডিয়ায় বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটা এর মধ্যেই মহামারির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। দেশের সবকটি জেলা এখন ডেঙ্গু কবলিত। পত্রিকান্তরে প্রকাশ এখন পর্যন্ত ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগে আমরা দেখেছি এ ডেঙ্গু নিয়ে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র কী বাগাড়ম্বর করেছেন, অনর্থক বিরোধীদলীয় রাজনীতিকে দোষারোপ করেছেন।

Advertisement

মান্না আরও বলেন, আমরা পত্রিকায় দেখেছি, ডেঙ্গুর ব্যাপারে আগাম সর্তকতা জানিয়ে হাইকোর্টে সিটি করপোরেশনকে নোটিশ দিয়েছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসেই। মার্চ মাসে স্বাস্থ্য অধিদফতর দুই সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গু নিয়ে সর্তকতা জারি করেছিল। কিন্তু কোনো কিছুই সরকারকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়াতে পারেনি, তাই আজ আমরা এ ডেঙ্গু মহামারির সম্মুখীন হয়েছি। সরকারি হিসাবেই এখন প্রতিদিন ২০০০— এর বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এদের (সরকার) হাতে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। এরা এখন পর্যন্ত কার্যকর মশা মারবার ওষুধ আমদানি করতে পারেনি, কিন্তু মশা মারবার নাটক করছে। বর্তমান ওষুধটি কার্যকর নয়, এমন রিপোর্ট গত দুই/তিন বছর থেকে পত্রিকায় দেখা গেলেও শুধুমাত্র পছন্দের কোম্পানিকে অন্যায়ভাবে কাজ পাইয়ে দেবার জন্য একই ওষুধ কেনা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো ব্যবস্থা তো নেয়াই হয়নি, বরং দেশকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিদেশে যান পারিবারিক সফরে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি করে মান্না বলেন, সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, ডেঙ্গুর সিজনের এখনও তিন মাস বাকি। আগামী সেপ্টেম্বরে এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার কথা। এখনই যদি এ পরিস্থিতি হয়ে থাকে তাহলে সেই সময় পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে— সেটা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতেও এখন পর্যন্ত একটা কার্যকর মশার ওষুধ আমদানি করে মশা মারার ব্যবস্থা করা যায়নি। এ ভয়াবহ ব্যর্থতার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের এখনই পদত্যাগ করতে হবে।

এর আগে, বিএনপির পক্ষ থেকেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি করা হয়। গত ৩ আগস্ট রাতে গুলশানে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ দাবি জানান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Advertisement

আলোচনা সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি— এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, নিউ ন্যাশন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

কেএইচ/এমএআর/এমএস