আন্তর্জাতিক

সিঙাড়া বেচেই কোটিপতি মুকেশ

ভারতের আলিগড়ে ঘিঞ্জি গলির এক সিঙারা বিক্রেতার দোকানে অভিযান চালিয়েছে দেশটির আয়কর অধিদফতর। অভিযোগ, বছরে কোটি টাকার ওপরে সিঙারা বিক্রি করেন এই দোকানের মালিক। কিন্তু তিনি কোনো ধরনের আয়কর দেন না।

Advertisement

ভারতীয় একটি দৈনিক বলছে, আলিগড়ের মুকেশ কচুরিওয়ালাকে এক নামে সকলে চেনেন। সীমা সিনেমা হলের কাছে ঘিঞ্জি গলির ভেতরে ছোট্ট দোকান। সকাল হতেই তেলের ছোঁক ছোঁক আওয়াজের সঙ্গেই উপচে পড়ে ভিড়। গরম তেলে কচুরি ও সিঙারা ছেড়ে ক্রেতাদের সঙ্গে খোশ গল্প জোড়েন মুকেশ। দিনভর চলে বিক্রি।

আলিগড়ের বিখ্যাত সেই মুকেশ কচুরির দোকানে আয়কর দফতরের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়েছেন। আয়কর দফতরের এমন কড়া নজরে নাজেহাল সিঙারা দোকানি মুকেশ।

আরও পড়ুন : ৯০ কেজি ওজনের ব্যক্তির নিচে চাপা পড়ে ৬০ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু

Advertisement

আয়কর দফতর বলছে, দিনভর কচুরি-সিঙাড়া বেচেই মুকেশের বার্ষিক আয় এক কোটি টাকা। তবে উৎসব-পার্বনে এই আয় কোটিও ছাড়িয়ে যায়। অথচ এক টাকাও আয়কর দেন না মুকেশ। জিএসটি রেজিস্ট্রেশনও নেই তার। ছোট্ট দোকানের বিপুল বিক্রির এমন নজির দেখে চোখ রীতিমতো কপালে উঠেছে স্টেট ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর (এসবিআই) কর্মকর্তাদের। ঘিঞ্জি গলির ছোট দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ আয়ের কথা স্বীকারও করেছেন মুকেশ।

এসবিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মুকেশ একজন কোটিপতি কচুরি ও সিঙারাওয়ালা। অথচ আয়কর দেন না। তার দোকানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।’

এতকিছুর মাঝে নির্বিকার মুকেশ কচুরিওয়ালা। কারণ জিএসটি, আয়করের নাম নাকি তিনি শোনেননি কখনও। মুকেশ বলেন, ‘১২ বছর ধরে আমার এই কচুরির দোকান। গরম কচুরি, সিঙাড়া সবই মেলে। এলাকার বাসিন্দাদের খুবই পছন্দ। বাইরে থেকেও লোকজন আসে। জিএসটি, আয়কর এসবও যে দিতে হয় সেটা জানতাম না।’

আরও পড়ুন : মুরসি ‘হত্যার’ নেপথ্যে যুক্তরাজ্যের অস্ত্র চুক্তি

Advertisement

বছরে আয় কত? এসবিআই কর্মকর্তাদের এমন প্রশ্নের মুখে গড়গড় করেই সব খরচপাতি বলে দিয়েছেন মুকেশ। তেল, সিলিন্ডার, মশলা থেকে খাবার বানানোর খুঁটিনাটি কিছুই লুকাননি তিনি। মুকেশ বলেছেন, বছরে ৭০ লাখ টাকা একেবারে ধরাবাঁধা। তবে কোনো কোনো সময় সেটি ছাড়িয়ে কোটিতে পৌঁছায়।

আয়কর দফতরের (আলিগড় রেঞ্জ) ডেপুটি কমিশনার রবীন্দ্র পাল সিং বলেন, ৪০ লাখের ওপর আয় হলেই জিএসটি রেজিস্ট্রেশন জরুরি। পাশাপাশি খাবারের ওপর ৫ শতাংশ ট্যাক্স। তার কিছুই দিতেন না মুকেশ।

ডেপুটি কমিশনারের কথায়, প্রথম কয়েকদিন আমরা মুকেশের দোকানের বিক্রির ওপর নজর রেখেছি। তারপর জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে প্রকৃত তথ্য। গত ২১ জুন দোকানে তল্লাশি চালাতেই সব বলে দেন মুকেশ। তবে তিনি আয়করের ব্যাপারে কিছু জানতেন না বলেই দাবি করেছেন।

মুকেশ কচুরিওয়ালার মতোই আলিগড়ে আরো ৬০০ দোকান রয়েছে। আয়কর দফতরের কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রত্যেকটি দোকানের মালিকই লাখপতি। অথচ আয়কর দেন না কেউই। মুকেশের পরে এবার আলিগড়ের অন্যান্য স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলিতে তল্লাশি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন অফিসাররা। দ্য ওয়াল।

এসআইএস/পিআর