দেশজুড়ে

‘ফণী আমাগো লায় শনি’

‘হুনছি ফণী নামে ঘুর্ণিঝড় একটা আইরো। এখনতো মনে হইরো ফণী আমাগো লায় শনি। সব ঠিক আছিল কিন্তু এই ঘুর্ণিঝড় আইয়া যেনো সবতা শেষ করি লাইরো।’ শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরে ধান কাটার সময় মিয়াফর আলী নামে এক কৃষক এসব কথা বলেন।

Advertisement

ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে এরই মধ্যে সুনামগঞ্জের সকল কৃষকদের সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। হাওর এলাকায় পানি প্রবেশের আগেই সকল ধান কেটে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ক্ষেতে পাকা ধান থাকলেও বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। বজ্রপাতের ভয়ে অনেক কৃষক হাওরে যাচ্ছেন না ধান কাটতে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে শুক্রবার সকালে বৃষ্টি হলেও সদর উপজেলার দেখার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ার আগে একমাত্র ফসল ঘরে তুলে নিতে হাওরে কাজ করছেন তারা।

সেখানে কথা হয় কৃষক ফরিদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই যা ধান পাকছে কাটি লাইরাম। কিন্তু অনেক ধান এখনো কাচা রইছে। কয়েকটা দিন গেলে এই ধানগুলো পাকি গেলো নে কিন্তু এখন যে বৃষ্টিপাত শুরু হইছে ধান পাওয়ার আশা নাই।

Advertisement

অপরদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় ধান শুকানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। একই হাওরের কৃষাণী আছমা খাতুন বলেন, ঘরে মাড়াই করা ধান পড়ে আছে, শুকানো যাচ্ছে না। বৃষ্টি না কমলে ধানে পচন ধরতে পারে। কষ্টের ফসল যদি নষ্ট হয় তাইলে আমারারে পথে বসতে হইবো।

হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, হাওরের বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য আতঙ্ক, বৃষ্টি আতঙ্কে কৃষকরা রাতে ঘুমাতে পারেন না। এমনিতেই হাওরে ধান কাটার শ্রমিক নেই, তার মধ্যে টানা বৃষ্টিপাতে হাওরে নামতে পারছেন না কৃষকরা। এমন অবস্থায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বশির আহম্মদ সরকার বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধান ৯০ শতাংশ কাটা পড়েছে। আমরা ঘূর্ণিঝড় ফণী থেকে বাঁচার জন্য সব রকমের প্রচার প্রচারণা চালিয়েছি। কৃষকদের নির্দেশনা দিয়েছি পেকে যাওয়া ধানগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে কেটে ফেলতে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, মেঘালয়ের বরাক উপত্যকায় বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি সুনামগঞ্জের দিকে নামছে। যে কারণে হাওরের বাঁধগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হাওরে যে ১০ ভাগ ধান রয়েছে তা দ্রুত কাটার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি।

Advertisement

মোসাইদ রাহাত/আরএআর/এমএস