আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্ত অব্যাহত আছে। তাদের চক্রান্ত থেকে জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করতে হবে। বিএনপি-জামায়াত ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। আবার অবৈধ টাকা দিয়ে ভোট কেনার ষড়যন্ত্র করছে।
Advertisement
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে অর্থ নিন আর নৌকা মার্কায় ভোট দিন, এটাই এখনকার স্লোগান। কারণ ক্ষমতায় থাকতে তারা দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় বানিয়েছে।’
বৃহস্পতিবার ঢাকার ধানমন্ডির সুধাসদন থেকে রাজশাহী, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা ও নড়াইলে নিজ দল ও জোটের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নৌকার জোয়ার দেখে ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপিয়ে ও চক্রান্তের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করছে বিএনপি। তাদের চক্রান্তের হাত থেকে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে। একদিকে বিএনপি কোনও প্রচার-প্রচারণায় নেই, অথচ নেতারা নির্বাচন কমিশনে প্রতিদিন নালিশ করে, অন্যদিকে তারা নির্বাচন বানচালের চক্রান্তও করে। বিএনপি নিজেরা নিজেরা মারামারি করে, আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে।
Advertisement
আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে বিএনপির ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি আসনের বিপরীতে তিন-চারজন করে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এর সঙ্গে বিএনপি প্রচুর মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। অতীতে বিএনপি দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, অস্ত্র চোরাচালানের মাধ্যমে, অর্থ আত্মসাৎ, এতিমের টাকা চুরির মাধ্যমে, এখন মনোনয়ন বাণিজ্যে অর্জিত টাকা নির্বাচনে ব্যয় করছে এবং এটাই তাদের চরিত্র।
প্রথমে রাজশাহীর পর ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা যুক্ত হন নড়াইলের জনসভায়। ইনজুরির কারণে নিজের নির্বাচনী এলাকায় যেতে না পারলেও সুধাসদন থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ক্রিকেট তারকা ও নড়াইল-২ আসনের প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজা।
ভিডিও কনফারেন্সে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় নৌকা মার্কায় ভোট দিতে নিজ এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানান মাশরাফি।
প্রতি জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজ দলের ও জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। প্রার্থীদের বক্তব্য দেয়ার যুযোগ দেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণ নৌকামার্কায় ভোট দেবেন কি না তা জানতে চাইলে সবাই দুহাত তুলে প্রতিশ্রুতি দেন যে, তারা আবার নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।
Advertisement
এফএইচএস/জেডএ/জেআইএম