আন্তর্জাতিক

কাঠমান্ডু পোস্টের খবর ভিত্তিহীন : তদন্ত কমিশন

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ইউবিজি-২১১ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলটের ওপর দায় চাপিয়ে নেপালি দৈনিক কাঠমাণ্ডু পোস্টে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে তদন্ত কমিশন। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্তে নেপাল সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশন সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দায়িত্বহীন এমন খবর প্রকাশে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

Advertisement

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নেপালের তদন্ত কমিশন বলছে, বিমান বিধ্বস্তের সম্ভাব্য কারণ জানতে কমিশনের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনা তদন্ত কশিনের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিমানটির বিধ্বস্তের প্রকৃত কারণ শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থার সুপারিশ করা। কমিশন বিশ্বাস করে দুর্ঘটনার তদন্ত কাজ গণমাধ্যমের প্রোপাগান্ডা চালানোর বিষয় নয়।

অনৈতিক ও প্রতারণামূলক এ ধরনের খবর প্রকাশের বিরুদ্ধে কমিশন ঘোরতর আপত্তি প্রকাশ করছে; যা সংশ্লিষ্ট মানুষ ও জনগণের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন : কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের শেষ যা কথা হয় (৪ মিনিটের অডিও)

Advertisement

'এখনো তদন্তাধীন এবং স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করা একেবারেই নিন্দনীয়।'

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত শেষে নেপাল সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিশন।

বিমান বিধ্বস্তে প্রাণহানির ঘটনার মতো স্পর্শকাতর এই বিষয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নেপাল সরকারের এই তদন্ত কমিশন।

এর আগে সোমবার নেপালের ইংরেজি ভাষার দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্ট এক প্রতিবেদনে বিধ্বস্তের জন্য পরোক্ষভাবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানকে দায়ী করে।

Advertisement

ওই প্রতিবেদনে নেপালি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত ১২ মার্চে বিধ্বস্ত ওই বিমানের পাইলট আবিদ সুলতান ত্রিভুবনে বিমান অবতরণের ব্যাপারে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ‘অসত্য’ তথ্য দিয়েছিলেন। ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবনে বিমানের এক ঘণ্টার পথে ককপিটের ভেতরে অনবরত ধূমপান করছিলেন পাইলট আবিদ সুলতান।

আরও পড়ুন : প্রায়ই ভুল এবং বিভ্রান্তিকর বার্তা দেয় ত্রিভুবনের এটিসি টাওয়ার

কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, এই এক ঘণ্টার পথে ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান ভয়াবহ ব্যক্তিগত মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন এবং ধারাবাহিকভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন; যে কারণে ফ্লাইট বিএস২১১ বিধ্বস্ত হয়।’

চলতি বছরের ১২ মার্চ বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস২১১ ঢাকা থেকে ৭১ আরোহী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পরে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। এতে ৫১ আরোহীর প্রাণহানি ঘটে। এদের মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি ও একজন চীনা নাগরিক।

নেপাল ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করলেও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘বিএস-২১১ ফ্লাইটের উড়োজাহাজে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন।’

‘নেপাল সরকারের তদন্ত প্রতিবেদন শেষ হওয়ার আগেই দেশটির গণমাধ্যমে বিমান বিধ্বস্তের জন্য পাইলটকে দায়ী করে যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে তা ‘ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট’। এর মাধ্যমে তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত হতে পারে’ বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার কামরুল ইসলাম।

এসআইএস/আরআইপি