জাতীয়

এ ভোগান্তির শেষ কবে?

মেরুল থেকে মধ্যবাড্ডা যাওয়ার রাস্তায় তীব্র যানজট। গণপরিবহন, প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি। অনেকেই গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে যানজটে স্থবির বসে আছেন। আরেকটু এগিয়ে যেতেই নজরে এলো ইউলুপ নির্মাণের কাজ। হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের বাড্ডা প্রান্তের ইউ আকৃতির গাড়ি পারাপার সেতুর (ইউলুপ) কাজ চলছে। মূলত এই কারণের প্রতিদিন এই সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক যানজট।

Advertisement

ইউলুপ নির্মাণ কাজের ধীর গতির কারণে প্রতিদিনের সৃষ্টি হওয়া যানজটে এ পথে চলাচলকারীদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। নির্মাণকাজের জন্য দুই লেনের গাড়িগুলোকে সরুপথে চলাচল করতে হচ্ছে। ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে শুরু হওয়া বাড্ডা ইউলুপটির কাজ এখনও চলছে। তবে বাড্ডার এই ইউলুপটি নির্মিত হলে যানবাহনগুলো প্রগতি সরণি হয়ে ইউলুপ দিয়ে বাঁক নিয়ে বনশ্রী, আফতাবনগর, রামপুরা বা মালিবাগ অভিমুখে সহজেই যাতায়াত করা যাবে। পাশাপাশি বাড্ডা পয়েন্টে সৃষ্ট যানজটেরও নিরসন হবে।

শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউলুপটির মাঝখানের অংশে কাজ করছেন শ্রমিরা। এছাড়া দুই দিকের কাজ অনেকটাই শেষ হয়েছে। মাঝখানের অংশে ঢালাই শুরুর আগে রডের ওপর লোহার পাত বসাতে ঝালাই করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। লোহার রড দিয়ে খাঁচি তৈরির পর শুরু হবে ঢালাইয়ের কাজ।

কর্মরত নির্মাণ শ্রমিক মোহাসিন আলী বলেন, শুরু থেকেই আমরা এখানে কাজ করছি। কাজ শেষ হতে আরও বেশকিছু সময় লাগবে। বর্তমানে লোহার রোড বসানোর কাজ হচ্ছে। এরপর আমরা ঢালাইয়ের কাজ শুরু করবো।

Advertisement

প্রতিদিন উত্তর বাড্ডার বাসা থেকে মালিবাগে অফিস করেন বেসরকারি চাকরিজীবী এনামুল হক। বলেন, ইউলুপ নির্মাণের কাজ শুরুর পর থেকেই এই রাস্তায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় যে কারণে সাধারণ যাত্রীদের প্রতিদিন ভোগান্তির শেষ নেই। বাসে যাতায়াতে সাধারণ সময়ের চেয়ে কমপক্ষে আধাঘণ্টা বেশি লাগে এই রাস্তা পার হতে। ইউলুপ নির্মাণ নিয়ে এ ভোগান্তির শেষ হবে কবে?

গুদারাঘাট ওয়াটার ট্যাক্সি টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা একজন কাউন্টার মাস্টার জানান, বাড্ডা থেকে রামপুরার রাস্তায় প্রতিদিন তীব্র যানজট থাকায় অনেকেই এখন গুদারাঘাট থেকে রামপুরা ঘাট পর্যন্ত ওয়াটার ট্যাক্সিতে যাতায়াত করে। ফলে ওয়াটার ট্যাক্সির এই রুটে যাত্রীদের সংখ্যা বেড়েছে।

এদিকে বাড্ডা ইউলুপ নির্মাণ কাজের দীর্ঘদিন ধরে চলায় এই এলাকায় ব্যবসায়ীদের তাদের ব্যবসায় মন্দাভাব সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ করে সেখানকার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই নির্মাণ কাজ চলায় আমাদের ব্যবসা অনেক খারাপ যাচ্ছে। তীব্র যানজট, নির্মাণ কাজের কারণে খানাখন্দ, সরু রাস্তার যানজটের জন্য কাস্টমার এদিকে আসে না। কবে যে কাজ শেষ হবে, তারপরই হয়তোবা ব্যবসায় গতি আসবে আমাদের।

এদিকে এই সড়কে চলাচলকারী তুরাগ বাসের চালক বেলাল মিয়া বলেন, ইউলুপ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই রাস্তায় যানজট থাকবে। প্রতিদিনই বিশেষ করে সকালে আর বিকেলের পর থেকে এই সড়কে যানজট বেশি থাকে। যানজটের কারণে অনেক সময় গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে থাকতে হয়।

Advertisement

তবে রামপুরায় প্রথম ইউলুপটি নির্মাণের পর যানজট নিরসনে বেশ সাফল্য পাওয়া গেছে তেমনিভাবে দৈর্ঘ্য ৪৫০ ও প্রস্থ ১০ মিটারের নকশা অনুযায়ী বাড্ডা ইউলুপের কাজ শেষ হলে এই এলাকার যানজট নিরসন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউলুপটি চালু হওয়ার বিষয়ে হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (রাজউক) জামাল আক্তার ভূঁইয়া বলেন, ইউলুপ নির্মাণের কাজ আমাদের বেশ এগিয়েছে, আরও কিছু কাজ বাকি তবে আশা করা যায় আগামী জুলাই-আগস্টের দিকে-এর কাজ শেষ হবে।

কাজ শেষ হতে বেশি সময় লাগার বিষয়ে তিনি বলেন, ইউলুপের মূল সড়কের ভূগর্ভস্থ অংশে ডেসকো, বিটিসিএল, তিতাস, ওয়াসাসহ বেশকিছু পরিসেবা সংস্থার তারের ও অন্যান্য কাজ ছিল, সেগুলোর কাজ শেষ হতে বেশ সময় লেগেছে।

এএস/এমআরএম/জেআইএম