দেশজুড়ে

বৃষ্টিতে কেবলই পিছাচ্ছে খুলনার সড়ক সংস্কার

চলতি মাসের মধ্যেই খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী সড়কের সিটি কলেজ থেকে রূপসা স্ট্যান্ড রোড পর্যন্ত সংস্কারের পরিকল্পনা ছিল ওয়াসার। প্রাথমিকভাবে ২ অক্টোবর থেকে কাজ শুরুর পরিকল্পনা করে সংস্থাটি। কিন্তু ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।

Advertisement

২৯ সেপ্টেম্বরের পর ১০ অক্টোবর থেকে আবার কাজ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। দুর্ভোগমুক্তির সংবাদে আশাবাদী হয়েছিল খুলনার মানুষ। কিন্তু ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সেই পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে গেল। এরপর ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয় সড়কের কাজ। ইতোমধ্যে সিটি কলেজ থেকে ২০০ ফুট কার্পেটিং করা হয়েছে। শুক্রবার পরের ৫০০ ফুট কার্পেটিং করতে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সড়কে প্রাইমকোট (সংস্কার কাজের একটি স্তর) করা হয়। বেড তৈরি করা হয়েছিল আরও ৬০০ ফুটের। কিন্তু দিনভর বৃষ্টিতে সব ভন্ডুল হয়ে গেছে।

ওয়াসার প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী খান সেলিম আহমেদ জানান, একদিন বৃষ্টি হলে কমপক্ষে তিনদিন কাজ পিছিয়ে যায়। খানজাহান আলী সড়কটি জাতীয় মহাসড়কের অংশ হওয়ায় অনেক নিয়ম মেনে এই কাজ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাস্তার বেড পুরোপুরি শুকানোর পরই প্রাইম কোট করতে হয়। এরপর একদিন শুকানোর পর ৭০ মিলিমিটারের কার্পেটিং করে উন্মুক্ত করে দিতে হয়। এর একদিন বা কয়েকদিন পরে ৫০ মিলিমিটারের কার্পেটিং করতে হয়। অর্থাৎ সড়কের একটি অংশ পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী করতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগে। এর মধ্যে বৃষ্টি হলে পুরো কাজ পিছিয়ে যায়।

Advertisement

প্রকল্প ব্যবস্থাপক জানান, এই সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে অন্য সাইড থেকে শ্রমিক এনে এখানে কাজ করা হয়েছে। এতে অন্যপাশের কাজও বন্ধ রাখতে হয়েছে। একদিনের বৃষ্টিতে সব পরিশ্রমই বৃথা হয়ে গেছে। সবদিক থেকেই কাজ পিছিয়ে গেছে।

সড়কের সংস্কার কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা মুন্সি জানান, ব্যস্ততম এই সড়কটি ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী করার পরিকল্পনা ছিল। মান সম্পন্নভাবে সংস্কার শেষ করতে সময় নিয়ে কাজ করার বিকল্প নেই। কিন্তু বৃষ্টিতে সব সিডিউল ওলটপালট করে দিচ্ছে।

ওয়াসার প্রকল্প কার্যালয় থেকে জানা গেছে, পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় মোল্লাহাটের মধুমতি নদী থেকে পানি এনে রূপসার সামন্তসেনায় পরিশোধন করা হবে। এরপর সেই পানি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত ৭টি রিজার্ভার ও ১০টি ওভারহেড ট্যাংকে পাঠানো হবে। সেখান থেকে নগরীর ভেতরে সরবরাহ করা হবে।

এদিকে সড়ক যথাসময়ে সংস্কার না হওয়ায় নগরীতে ভোর থেকে গভীর রাত অবধি লেগে থাকছে দুরহ যানজট। নগরীর খানজাহান আলী রোড, সামসুর রহমান রোড, আহসান আহমেদ রোড, খান এ সবুর রোডে যানজট যেনো সব সময় লেগে থাকছে। যা রাজধানীর যানজটকেও হার মানিয়ে দিয়েছে। তারপর শুরু হয়েছে গত দুদিন থেকে ভারি বর্ষণ। যা গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মধ্যে।

Advertisement

আলমগীর হান্নান/এফএ/এমএস