সপ্তাহখানেক পেছনে যদি ফিরে তাকান, দেখবেন ঢাকা তখন ফাঁকা হতে শুরু করেছে। মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে তখন লাখো মানুষ। কি রেলস্টেশন, কি বাসস্ট্যান্ড, কি লঞ্চঘাট- কোথাও যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এদেশের কর্মজীবী মানুষের জন্য ছুটি যেন সোনার হরিণ। বছরে মাত্র এক-আধবার তার দেখা মেলে। হাজারটা অসুবিধা উপেক্ষা করে তাই আমরা ছুটে যাই প্রিয়মুখগুলোর কাছে। অনেকদিন দেখা না হওয়া আপনজনের মুখ দেখে প্রশান্ত করি আমাদের হৃদয়।
Advertisement
আরও পড়ুন: বৃষ্টি মানেই বিলাসিতা নয়
পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন শারমিন। তিনি পড়ছেন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মান তৃতীয় বর্ষে। জানালেন, 'ঈদের ছুটি শেষ হয়ে ক্লাস শুরু হবে নয় তারিখ থেকে। তাইতো এবার ফেরার পালা। প্রতিবার বাড়িতে এলে মা এটাসেটা রান্না করে খাওয়ানই, ফেরার সময় অনেকরকম খাবার রান্না করে সঙ্গে দিয়ে দেন। মা সঙ্গে না থাকলেও মায়ের হাতের রান্না যেন খেতে পারি। মা-বাবা, ভাইবোন সবাইকে ছেড়ে এতদূরে থাকতে প্রথমদিকে কষ্ট হলেও এখন মানিয়ে নিয়েছি। তাইতো সারা বছর অপেক্ষায় থাকি কবে মিলবে ছুটি।'
শারমিনের মতোই যারা ছুটিতে বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা একে একে ফিরে আসছেন ঢাকায়। নাড়ির টানে বাড়ি গিয়েছিলেন, জীবন ও জীবিকার টানে ফিরছেন ঢাকায়। ঢাকা ফিরে পাচ্ছে তার আগের রূপ। ইট-কাঠ-পাথরের এই যান্ত্রিক নগরে বাড়ছে প্রাণের ভিড়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত খুলতে শুরু করেছে। একে একে ফিরে আসা প্রাণগুলো আবারো ব্যস্ত হয়ে যাবে নিজ নিজ কাজে।
Advertisement
আরও পড়ুন: হে বন্ধু, হে প্রিয়...
অফিস, এসাইনমেন্ট কতশত কাজ! কাজের চাপের মাঝে কখনো একটু অবসর মিললে হঠাৎ হঠাৎ চোখে ভেসে উঠবে প্রিয় মুখগুলো। তারপর আবার ব্যস্ততা। দিনশেষে বাসায় ফিরে স্মৃতির আঁচড়ে পরশ বোলাবে। তারপর অপেক্ষা করবে ছুটি নামের সোনার হরিণের। কবে আবার ফেরা হবে বাড়ি, কবে ছুটি!
এইচএন/পিআর
Advertisement