গণমাধ্যম

জজের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় সাংবাদিক আহত, শাস্তি দাবি ক্র্যাবের

রাজশাহীতে জজের ‘রং সাইডে’ চলা বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) জ্যেষ্ঠ সদস্য লাইফ টিভির এডিটর ইন চিফ আনোয়ার হক। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করা হয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ক্র্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ দাবি জানান।

গত মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতে রাজশাহীতে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও গুরুতর আহত হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

আহত সাংবাদিক আনোয়ার হক ও তার পরিবার সূত্রের বরাত দিয়ে ক্র্যাব নেতারা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহীর সাহেব বাজারের রাজশাহী প্রেস ক্লাব থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে কোর্ট স্টেশন এলাকার বাসায় ফিরছিলেন তিনি। ভেড়িপাড়া মোড় অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা একজন জজের বড় আকারের হায়েস মাইক্রোবাসটি (ঢাকা-মেট্রো-চ-১৯-৪৬৮২) রিকশাটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়।

Advertisement

এতে সাংবাদিক আনোয়ার হক রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন। ঘাড়, মাথা, বুক, হাত, কোমর, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ ঘটনায় রিকশাচালকও মারাত্মক আহত হন। তার রিকশার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক সেবা-শুশ্রুষা দেন। এই সুযোগে জজকে বহনকারী মাইক্রোবাসটির চালক গাড়িটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত জনতা গাড়িটি আটকে দেন।

বিক্ষুব্ধ জনতা মাইক্রোবাসচালককে গাড়িটি রাস্তার একপাশে নিয়ে রেখে গাড়ি থেকে নামতে বললেও তিনি তাদের কোনো কথাই শুনতে চাননি। উল্টো তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। এক পর্যায়ে ওই পথ দিয়ে সাদা পোশাকে মোটরসাইকেলযোগে যাচ্ছিলেন রাজপাড়া থানা পুলিশের দুজন সদস্য। তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে পুরো ঘটনা শুনে মাইক্রোবাস ও রিকশাটি রাস্তার পাশে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশের একটি টহল টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাইক্রোবাস ও রিকশাটি থানায় নেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং জনগণকে সরে যেতে বলেন।

ঠিক এমন সময় সাদা রঙের পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত এক যুবক চিৎকার করতে করতে ঘটনাস্থলে এসে জনতার মধ্যে ঢুকে পড়েন। উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, স্যারের গাড়ি কে আটকে রেখেছে? সবাই সরে যান।

গাড়ির কাছে এসে পুলিশ সদস্যদের তিনি বলেন, জানেন, ভেতরে কে আছে? জজ স্যারের গাড়ি এটা। ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে, এই মুহূর্তে গাড়ি ছাড়ার ব্যবস্থা করেন।

Advertisement

ঘটনাস্থলের পাশের বাসিন্দা উল্লেখ করে নিজেকে রাজশাহী কোর্টের নাজির রানা বলে পরিচয় দেন ওই যুবক। তিনি জানান, ম্যাজিস্ট্রেট শংকর কুমার তাকে পাঠিয়েছেন। গাড়িটির ভেতরে রয়েছেন চট্টগ্রামের অ্যাডিশনাল জজ আলিম উদ্দিন। রাজশাহীতে উনার শ্বশুরবাড়ি।

নাজির রানার এ নির্দেশনার পরপরই পুলিশ রিকশাচালককে একপাশে নিয়ে দ্রুত ওই এলাকা থেকে বের করে দেয়। সাংবাদিক আনোয়ার হক গাড়ির ভেতরে বসা জজ আলিমের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্তু প্রথমে তিনি গাড়ি থেকে নামতে রাজি হননি।

পরে মাত্র মিনিটখানেকের জন্য বাইরে এলে আনোয়ার হক বলেন, আপনার বেপরোয়া চালকের কারণে আমি তো মারাত্মকভাবে আহত হচ্ছিলাম। উত্তরে সেই বিচারক তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সুরে ঘাড় ঝাঁকিয়ে বলেন, ‘অ্যাক্সিডেন্ট হতেই পারে। আপনি তো আর মরেননি’, বলেই তিনি গাড়িতে উঠেই চালককে গাড়ি স্টার্ট দিতে বলেন। পুলিশের সহায়তায় দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় জজের ওই মাইক্রোবাস। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কেআর/এমকেআর/জেআইএম