চট্টগ্রামে মধ্যরাতে প্রাইভেটকাটে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় মোহাম্মদ মানিক (৩০) ও আবদুল্লাহ (৩২) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রবিন ও হৃদয় নামে আহত হয়েছেন আরও দুজন। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
Advertisement
শনিবার (২৯ মার্চ) দিনগত রাত পৌনে ৩টার দিকে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কারা গুলি ছুড়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেনি পুলিশ।
নিহত দুজনের মধ্যে মোহাম্মদ মানিক পেশায় গাড়িচালক। তার বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট গ্রামে। তিনি প্রাইভেটকারটিতে চালকের আসনে বসা ছিলেন।
আরও পড়ুন
Advertisement
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলভার রঙের একটি প্রাইভেটকার কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে বাকলিয়া এক্সেস রোডে প্রবেশ করলে পেছন দিক থেকে তিন-চারটি মোটরসাইকেলে হেলপেট পরা অজ্ঞাতপরিচয় যুবকরা গাড়িটিকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকেন। প্রাইভেটকারের ভেতর থেকেও মোটরসাইকেল আরোহীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়া হয়।
তবে মোটরসাইকেল আরোহীদের কাছে অস্ত্রের সংখ্যা ছিল বেশি। সবার মাথায় ছিল হেলমেট। গুলিতে প্রাইভেটকারের পেছনের কাচ পুরো নষ্ট হয়ে যায়। গাড়ির বিভিন্ন অংশ গুলিতে ফুটো হয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে তার আগেই দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাড়িতে থাকা চারজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মানিক ও আবদুল্লাহকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
Advertisement
সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ ঢাকায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ায় আকরাম নামের এক ব্যক্তিকে টার্গেট করে প্রাইভেটকারে গুলি করা হয়। আকরামের ব্যবহৃত গাড়ির মডেল ও রং একই।
আরও পড়ুন
যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি, আহত বেশ কয়েকজনসাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়ার পর হুমকির ঘটনায় আকরামের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্না শারমিন ও সহযোগী হাসানসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।
সিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাকিলা সুলতানা বলেন, বাকলিয়া এক্সেস রোডে গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। কী কারণে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে প্রাথমিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে।
এমডিআইএইচ/এমকেআর/জেআইএম