২০২৬ বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে হলে মাত্র একটি পয়েন্ট পেলেই যথেষ্ট ছিল; কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা খেলতে নেমেছে নিজেদের ঘরের মাঠে। সেখানে প্রতিপক্ষ কে? তা বিবেচনায় না নিলেও চলবে। এমনকি মেসি-লওতারো মার্টিনেজের মতো বিশ্বসেরা ফুটবলার, স্ট্রাইকার না থাকলেও চলবে।
Advertisement
বুয়েন্স আয়ার্সের এস্টাডিও মাস মনুমেন্টালে ব্রাজিলকে তাই গোনায়ও ধরেনি হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ কিংবা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টাররা। পাশের দেশকে দাঁড়াতেই দেয়নি নিজেদের সামনে। চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের জালে গুনে গুনে একহালি গোল দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
৪-১ গোলে ব্রাজিলকে বিধ্বস্ত করে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে লাতিন আমেরিকা থেকে প্রথম এবং বিশ্বে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলো লিওনেল মেসির দেশ। প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিলো জাপান, দ্বিতীয় দল ছিল নিউজিল্যান্ড। তাদের পরে নাম লিখলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেছেন হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং জিউলিয়ানো সিমিওনে। ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেন ম্যাথিয়াস চুনহা।
Advertisement
অবশ্য ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো আর্জেন্টিনার, উরুগুয়ে-বলিভিয়া গোলশূন্য ড্র করায়। ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র নয়, জেতার সর্বোচ্চ প্রতিজ্ঞা নিয়েই মাঠে নেমেছিলো আলবিসেলেস্তারা।
বিশ্বকাপ বাছাই লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে ১৪ ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার পয়েন্ট ৩১। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে ব্রাজিল। ২৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ইকুয়েডর এবং ২১ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে ৩য় স্থানে উরুগুয়ে। লাতিন থেকে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে ৬ দল। সাত নম্বরে থাকা ভেনেজুয়েলার চেয়ে ১৬ পয়েন্ট এগিয়ে আর্জেন্টিনা। রাউন্ড বাকি আছে আর মাত্র ৪টি।
৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিশ্চিত অর্থেই কোচ দরিভাল জুনিয়রের ওপর পাহাড় সমান চাপ তৈরি হবে। তবে ম্যাচে আর্জেন্টিনা যেভাবে খেলেছে, তাতে ব্রাজিল যে আরও বেশি গোল হজম করেনি, তাতে তার ভাগ্য ভালোই বলতে হবে।
বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বুয়েন্স আয়ার্সে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামে ব্রাজিল। কার্ড এবং ইনজুরির সমস্যায় বেশ কয়েকজন মূল খেলোয়াড়কে ছাড়াই একাদশ তৈরি করেন দরিভাল জুনিয়র।
Advertisement
গোলরক্ষক অ্যালিসন কিংবা এডারসনের কেউ ছিলেন না। তিন নম্বর গোলরক্ষক বেন্তোকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন তিনি। ইনজুরির কারণে দলে ছিলেন না মিডফিল্ডার গার্সন। এছাড়া কার্ড সমস্যায় ছিলেন না ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালেস এবং মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস।
ফলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৬টি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন দরিভাল জুনিয়র। তবে তার পরিবর্তিত একাদশ যে পুরোপুরি ব্যর্থ হলো, তা এখন চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায়। কারণ ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৩ গোল হজম করে ফেলেছিলো তারা।
মেসি-মার্টিনেজরা না থাকলেও আর্জেন্টিনার মোটিভেশনের অভাব ছিল না। ম্যাচ শুরুর আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো বিশ্বকাপে উঠে গেছে। উৎসবের আমেজ তখনেই শুরু হয়। ম্যাচেও শুরু থেকে সেই উচ্ছ্বাস এবং আমেজ ধরে রাখে আর্জেন্টিনা ফুটবলাররা। যার ফল দেখা যায় চতুর্থ মিনিটেই। থিয়াগো আলমাদার থ্রো বল ধরে খুব কাছ থেকে নেয়া শটে ব্রাজিলের জাল কাঁপিয়ে দেন অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ তারকা হুলিয়ান আলভারেজ।
লিড নিতে খুব বেশি বিলম্ব করেনি লা আলবিসেলেস্তারা। এনজো ফার্নান্দেজকে চারজন ডিফেন্ডারও ধরে রাখতে পারলো না। ছোট বক্সের সামনে থেকে দারুণ এক শটে ব্রাজিলের জালে বলটা জড়িয়ে দেন চেলসি তারকা।
২৬ মিনিটে আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর এক অমার্জনীয় ভুলে বল পেয়ে যায় ব্রাজিলের ম্যাথিয়াস চুনহা। পেয়েই জড়িয়ে দেন আর্জেন্টিনার জালে। বলা যায়, রোমেরো গোলটি উপহারই দিলেন ব্রাজিলকে।
৩৭তম মিনিটে ২ গোলের ব্যবধান আবারও তৈরি করে আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে বল পেয়ে দারুন এক শটে ব্রাজিলের জালে জড়িয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
এরপর প্রথমার্ধের শেষের দিকে এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে অনেকগুলো গোলের সুযোগ তৈরি করেছে আর্জেন্টিনা। গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৭১তম মিনিটে গিয়ে বদলি খেলোয়াড় জিউলিয়ানো সিমিওনে খুব কাছ থেকে গোল করে ৪-১ গোলের ব্যবধান তৈরি করেন।
আইএইচএস/