তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। এ ধারণা থেকেই ইউরোপিয়ান ফুটবলে তরুণদের বেশ কদর। সম্ভাবনাময়ীদের কেউ হাতছাড়া করতে চান না। নিজেদের দলে রেখে দিতে চান যেকোনো উপায়ে। এই যেমন কয়েক সপ্তাহ আগে নরওয়ের তরুণ ফুটবলার আরলিং হালান্ডের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করেছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি।
Advertisement
এবার আরেক তরুণ জামাল মুসিয়ালার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করেছে জার্মান বুন্দেসলিগার ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ। ক্লাবটি ২১ বছরের মুসিয়ালার সঙ্গে ২০৩০ পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসিতে বড় হওয়া মুসিয়ালা ২০১৯ সালে ১৬ বছর বয়সে বায়ার্নে যোগ দেন। বাবা ব্রিটিশ-নাইজেরিয়ান ও মা পোল্যান্ডের (সাবেক জার্মান সাম্রাজ্য) হওয়ায় যুব পর্যায়ে জার্মানি ও ইংল্যান্ড— উভয় দেশের হয়ে খেলেছেন মুসিয়ালা। ২০২১ সালে মাতৃভূমি জার্মানির জাতীয় দলে খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মুসিয়ালা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব খুশি। বায়ার্ন বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাব। এখানে পেশাদার ফুটবলে আমার হাতেখড়ি হয়েছে। বিশ্বাস করি, আমরা আগামী বছরগুলোতে এই ক্লাবের সঙ্গে বড় কিছু অর্জন করতে পারবো।’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘মিউনিখ শহর এবং ক্লাবে আমাদের অসাধারণ ভক্তদের সঙ্গে থাকায় একে বাড়ির মতো অনুভব করি। আমাদের অনেক লক্ষ্য রয়েছে, যা আমরা অর্জন করতে চাই। সামনে যা কিছু আসবে, তার জন্য আমি রোমাঞ্চিত।’
ম্যানচেস্টার সিটির নজরে থাকা মুসিয়ালা এখন পর্যন্ত বায়ার্নের হয়ে ১৯৩ ম্যাচে ৫৮টি গোল এবং ৩৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন। গত মৌসুমে ১৩ গোল করে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। সবচেয়ে বেশি ৪৪টি গোল করেছিলেন ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন।
মুসিয়ালা বায়ার্ন ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত চারটি বুন্দেসলিগা শিরোপা এবং আরও পাঁচটি বড় শিরোপা জিতেছেন।
মুসিয়ালার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে বায়ার্নের ক্রীড়া বোর্ড সদস্য ম্যাক্স এবরল বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ ক্লাবগুলো এমন খেলোয়াড়দের খোঁজ করে যারা পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে। জামাল মুসিয়ালা সেই তালিকায় অনন্য। সে বায়ার্নের বর্তমানকে গঠন করছে এবং ভবিষ্যতও গড়ে তুলবে। সে আমাদের নতুন প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি।’
Advertisement
তিনি যোগ করেন, ‘জামালের মতো একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়কে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্য রাজি করাতে পারাটা আমাদের জন্য বড় বিষয়। তার মতো খেলোয়াড় আমাদের ক্লাবের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করার বার্তা পাঠাচ্ছে।’
এমএইচ/